প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কটাক্ষ করায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। রাহুলের বক্তব্যকে ‘অশালীন’ ও ‘অসংস্কৃত’ আখ্যা দিয়ে দলটি বলেছে, তার মন্তব্য বিরোধীদলীয় নেতার পদের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বৃহস্পতিবার রচনাত্মক কংগ্রেসের জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মোদির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ব্যঙ্গ করেন রাহুল গান্ধী। তার দাবি, বিদেশনীতি বলতে প্রধানমন্ত্রী মূলত বিভিন্ন দেশের নেতাদের আলিঙ্গন করাকেই বোঝেন।
মঞ্চে কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতকে আলিঙ্গন করে বিষয়টি অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেন রাহুল। পরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গও তোলেন সন্দীপ দীক্ষিত। রাহুলও সেই মন্তব্যে সায় দেন।
এ সময় রাহুল বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (আরএসএস) ‘একদল ভাঁড়’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, তারা ভারতকে বোঝে না।
রাহুলের বক্তব্যের জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বলেন, ‘রাহুল গান্ধী, আপনি কবে বড় হবেন? ভারত পরিচালনায় পরিণত নেতৃত্ব প্রয়োজন, অপেশাদার নাটক নয়।’
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ‘ভাঁড় ও জোকার’ বলা প্রমাণ করে রাহুলের রাজনৈতিক পরিপক্বতার অভাব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনার মাধ্যমে রাহুল ভারতের জনগণকেই অপমান করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং রাহুল গান্ধীকে ‘মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধীকে তাঁর বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার পরামর্শ দেন তিনি।
বিজেপির সংসদ সদস্য বাঁসুরি স্বরাজও রাহুলের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাহুল যে ‘অসংস্কৃত, অশালীন ও আপত্তিকর’ ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা বিরোধীদলীয় নেতার মতো সাংবিধানিক পদের মর্যাদার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজন এমন একজন বিরোধীদলীয় নেতা, যিনি গঠনমূলক বিরোধিতার ভূমিকা পালন করবেন; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘মিম’ ও ‘রিলস’-এর জন্য সস্তা বক্তব্য দেবেন না।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও রাহুলের মন্তব্যের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে রাহুলের ‘অশালীন কৌতুক’ জনপরিসরের আলোচনাকে নতুন নিম্নতায় নিয়ে গেছে।
সময়ের আলো/কেএইচ