১৫ বছরেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওকলাহোমা, টেনেসি ও আলাবামা অঙ্গরাজ্যে পৃথক সময়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
প্রথমে ওকলাহোমায় স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে কার্লোস কুয়েস্তা-রদ্রিগেজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ৭০ বছর বয়সী কুয়েস্তা-রদ্রিগেজ ২০০৩ সালে তার সঙ্গী অলিম্পিয়া ফিশারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। তিনি ক্ষমার আবেদন করেও সফল হননি। আবেদনে তিনি নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছিলেন।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর টেনেসিতে ৬৬ বছর বয়সী ড্যারেল হাইনসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৯৮৫ সালে মোটেলের কর্মী ও চার সন্তানের মা ক্যাথরিন জিন জ্যাকসন জেনকিনসকে হত্যার দায়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল।
হাইনসের আইনজীবীরা এর আগে তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, মে মাসে টেনেসিতে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় শিরা খুঁজে পেতে দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
হাইনসের আইনজীবী ক্যাথরিন ডিক্স তাঁর মৃত্যুদণ্ডকে ‘হত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, হাইনস শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন—তিনি অন্ধ ছিলেন, শরীরের বাঁ পাশ অবশ ছিল, হাঁটতে পারতেন না এবং নিয়মিত ব্যথায় ভুগতেন।
দিনের তৃতীয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় আলাবামায়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ৪২ বছর বয়সী জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ২০২১ সালে জর্জিয়ায় পাঁচ বছর বয়সী কামারি হল্যান্ডকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
উইলিয়ামস আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছিলেন। তিনি আপিল না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং বিচার চলাকালে তার আইনজীবীদের কোনো বিষয়ে আপত্তি জানাতেও নিষেধ করেছিলেন। ফলে অন্যান্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীর তুলনায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। শেষ বক্তব্যে তিনি নিজের পাপ ক্ষমা করার জন্য ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ ঘটেছিল ১৫ বছরেরও বেশি আগে। একই দিনে তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মূলত সময়সূচির সমাপতন হলেও যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রবণতা নতুন করে বাড়ার ইঙ্গিতও এটি।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪৭টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা আগের বছরের ২৫টির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর বড় অংশই হয়েছে ফ্লোরিডায়। অঙ্গরাজ্যটিতে গত বছর ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
তিনজনেরই মৃত্যুদণ্ড প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে কার্যকর করার কথা ছিল। ১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতিই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলিত মাধ্যম। তবে আলাবামা সাম্প্রতিক সময়ে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছিল। গত জুনে এক ফেডারেল বিচারক পদ্ধতিটিকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা স্থগিত করেন।
সময়ের আলো/কেএইচ