ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ র্যাপার ড্রোন হারিয়েছে। এই সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মোট র্যাপার ড্রোনের প্রায় ২৫ শতাংশ। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে আবারও বড় ধরনের সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন সরবরাহ ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। র্যাপার ড্রোনগুলো নজরদারি ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং প্রতিটির দাম সরঞ্জামভেদে প্রায় ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। ফলে হারানো ড্রোনগুলোর সম্ভাব্য মূল্য ১৩০ কোটি ডলারের বেশি। তবে হারানো সব ড্রোনই ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়নি। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েকটি ড্রোনের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে হরমুজ প্রণালির আশপাশে ব্যাপকভাবে র্যাপার ড্রোন ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ড্রোনগুলো তুলনামূলক ধীরগতির এবং অনেক সময় কম উচ্চতায় উড়ে থাকে। ফলে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য এগুলো তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য র্যাপার ড্রোনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মে মাসে মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রধান জেনারেল কেনেথ এস. উইলসবাখ প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটিকে বলেছিলেন, যুদ্ধে র্যাপার ছিল ‘সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ সামরিক সম্পদগুলোর একটি।
র্যাপার ড্রোন হারানোর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার খবরের মধ্যেই সামনে এলো। এর আগে ইরান যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির খবর অস্বীকার করে আসছে। একই সময়ে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পকে অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ সংঘাতে ড্রোনসহ বিভিন্ন অস্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সময়ের আলো/কেএইচ