সিএনজি চলছে রান্নার এলপিজিতে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে কালীপুরা ট্রলার ঘাট পর্যন্ত সড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিএনজি অটোরিকশায় ব্যবহার করা হচ্ছে বাসাবাড়ির রান্নার এলপিজি

2026-08-14T17:04:43+00:00
2026-08-14T17:06:33+00:00
 
  শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
তীব্র গ্যাস সংকট
সিএনজি চলছে রান্নার এলপিজিতে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৪ পিএম  আপডেট: ১৪.০৮.২০২৬ ৫:০৬ পিএম
গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে কালীপুরা ট্রলার ঘাট পর্যন্ত সড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিএনজি অটোরিকশায় ব্যবহার করা হচ্ছে বাসাবাড়ির রান্নার এলপিজি সিলিন্ডার। ছবি : সময়ের আলো
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে কালীপুরা ট্রলার ঘাট পর্যন্ত সড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিএনজি অটোরিকশায় ব্যবহার করা হচ্ছে বাসাবাড়ির রান্নার এলপিজি সিলিন্ডার। তীব্র গ্যাস সংকটের দোহাই দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে প্রায় দুই ডজন সিএনজি অটোরিকশা। চালকদের এমন অসচেতনতায় যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

সরেজমিনে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভবেরচর থেকে কালীপুরা ট্রলার ঘাট পর্যন্ত চলাচলকারী অন্তত ২৪টি সিএনজি অটোরিকশায় সাধারণ সিএনজি সিলিন্ডারের বদলে ব্যবহার হচ্ছে রান্নার এলপিজি সিলিন্ডার। যাত্রীদের বসার ঠিক পেছনেই দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে এই সিলিন্ডারগুলো।

সিএনজি চালকরা জানান, সিএনজির তীব্র সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে তারা এই পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। উপজেলার অধিকাংশ সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নেই, আর যেখানে গ্যাস পাওয়া যায় সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে অন্তত ১০-১২ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গজারিয়ার স্থানীয় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের তীব্র হাহাকার চলছে। একেকজন চালককে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় তবুও অনেক সময় মিলছে না গ্যাস।


সিএনজি অটোরিকশা চালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, এভাবে দিনের পর দিন গাড়ি বন্ধ থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। জীবিকার তাগিদেই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে এই বিপজ্জনক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছি।

এ পথে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের বসার সিটের ঠিক পেছনে এভাবে এলপিজি সিলিন্ডার রাখা যে কতটা ভয়ংকর তা বলে বোঝানো যাবে না। বিকল্প যানবাহন না থাকায় বাধ্য হয়েই সিএনজিতে উঠতে হচ্ছে। দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলে এর দায় কে নেবে?

আরেক যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, পুরো পথ আতঙ্কে পার হতে হয়। সামান্য একটু আগুনের স্ফুলিঙ্গ থেকেই বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; আগে যেখানে ভাড়া ছিল ৪০ টাকা, এখন তা আদায় করা হচ্ছে ৫০ টাকা।

বিষয়টি সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের গজারিয়া স্টেশন কর্মকর্তা মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, এলপিজি অত্যন্ত দাহ্য গ্যাস। পরিবহনের ঝাঁকুনিতে সিলিন্ডারে ত্রুটি দেখা দিলে কিংবা ছোট স্পার্ক থেকেও মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কোনোভাবেই সিএনজি অটোরিকশায় রান্নার এলপিজি ব্যবহার করা যাবে না।

এ বিষয়ে ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল আখন্দ বলেন, যানবাহনে রান্নার এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি। দ্রুতই এই সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, সাধারণ মানুষের জীবনঝুঁকি এড়াতে এসব অবৈধ সিলিন্ডারের ব্যবহার বন্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   তীব্র গ্যাস সংকট  গ্যাস সংকট  সিএনজি  রান্না  এলপিজি  অটোরিকশা  দুর্ঘটনার ঝুঁকি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: