পুঁজিবাজারের কার্যক্রম আরও সহজ করতে মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ সংরক্ষণকারী বা কাস্টডিয়ান ব্যাংকগুলোর জন্য থাকা কিছু জটিল নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে কাস্টডিয়ান ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গতকাল তিনটি পৃথক নির্দেশনা জারি করেছে বিএসইসি। নির্দেশনাগুলো জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫-এর কয়েকটি শর্ত সহজ করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রথম নির্দেশনায় বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মে কাস্টডিয়ান ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে মনোনীত ব্যক্তিকে ফান্ডের ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ হিসাব পরিচালনার জন্য স্বাক্ষরকারী হতে হয়। তবে বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় সাধারণত পৃথক পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। নতুন নিয়মে বিদেশি ব্যাংকের স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি বা নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা পরিচালনা পর্ষদের এই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।
দ্বিতীয় নির্দেশনায় কাস্টডিয়ান ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণতথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। এতদিন কাস্টডিয়ান হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ব্যাংকের প্রত্যেক পরিচালকের পৃথক ঋণতথ্য ব্যুরো বা সিআইবি প্রতিবেদন জমা দিতে হতো। এখন আর আলাদা প্রতিবেদন দিতে হবে না। ব্যাংককে একটি সমন্বিত প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কোনো পরিচালক ঋণখেলাপি নন— এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয় নির্দেশনায় আর্থিক প্রতিবেদনে স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। আগে কাস্টডিয়ান ব্যাংককে মিউচুয়াল ফান্ডের আর্থিক বিবরণীতে সরাসরি স্বাক্ষর করতে হতো। এখন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ মনোনীত কোনো কর্মকর্তা হেফাজতে থাকা সম্পদের তথ্য সঠিক রয়েছে— এমন একটি প্রত্যয়নপত্র দিলেই তা যথেষ্ট হবে।
বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত জটিলতা কমায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দেশের মিউচুয়াল ফান্ডে কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করার সুযোগ সহজ হবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ