১৯৪৭ সালে মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকলে দেশভাগ হতো না : যোগী আদিত্যনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের স্বাধীনতার ৭৯ বছর পূর্তির দিনে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী

2026-08-15T10:22:01+00:00
2026-08-15T10:36:59+00:00
 
  শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
১৯৪৭ সালে মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকলে দেশভাগ হতো না : যোগী আদিত্যনাথ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ এএম  আপডেট: ১৫.০৮.২০২৬ ১০:৩৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের স্বাধীনতার ৭৯ বছর পূর্তির দিনে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দেশভাগের জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করে তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতার সময় নরেন্দ্র মোদির মতো কোনো নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকলে দেশ ভাগ করা সম্ভব হতো না।’ একইভাবে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল প্রধানমন্ত্রী থাকলেও ভারত অখণ্ড থাকত বলে দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার লখনৌতে ‘দেশভাগের ভয়াবহতা স্মরণ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন বিজেপির এই নেতা। দেশভাগকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময়ের ঘটনা থেকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।

যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে কংগ্রেসের ভূমিকার সমালোচনা। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব ভারতকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর পরিণতিতে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হন এবং ব্যাপক সহিংসতার শিকার হন।

তিনি বলেন, দেশভাগের সময় পাঞ্জাব ও বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিভক্ত হয়ে যায়। এর ফলে বহু মানুষকে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। সেই সময়ের হত্যাকাণ্ড, বাস্তুচ্যুতি ও মানুষের দুর্ভোগ নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যোগীর ভাষ্য, ‘কংগ্রেসের কাপুরুষতার মূল্য আজও ভারতকে দিতে হচ্ছে।’ তাঁর দাবি, ১৯৪৭ সালে যদি নরেন্দ্র মোদির মতো দৃঢ় নেতৃত্ব ভারতের দায়িত্বে থাকত, তাহলে দেশকে বিভক্ত করা যেত না। একই কথা তিনি বলেছেন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ক্ষেত্রেও।

তবে যোগীর এই বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক মূল্যায়ন। ইতিহাসবিদদের মধ্যে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের কারণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নীতি, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তৎকালীন পরিস্থিতিকে দেশভাগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হয়।

অনুষ্ঠানে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ নিয়েও বিরোধীদের সমালোচনা করেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি আইনটি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল।

যোগী বলেন, সিএএতে কারও জমি বা সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার কোনো বিধান ছিল না। কিন্তু আইনটির বিরোধিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

সিএএ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে নির্যাতিত হয়ে ভারতে আসা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ সহজ করতেই আইনটি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, আইনটি নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছিল।

যোগী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু পরিবারগুলোর প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, উত্তর প্রদেশের পিলিভিতে বাংলাদেশ থেকে আসা হাজারো পরিবারের জমিসংক্রান্ত নথি সংশোধন করা হয়েছে এবং তাঁদের জমির মালিকানার কাগজ দেওয়া হয়েছে।

লখিমপুর খেরিতেও বাংলাদেশ থেকে আসা বিপদগ্রস্ত হিন্দু পরিবারকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

দেশভাগের পর বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনে আগের সরকারগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি বলেও অভিযোগ করেন যোগী। তাঁর মতে, যারা পাকিস্তান থেকে ভারতে এসে সর্বস্ব হারিয়েছিলেন, তাঁদের হারানো সম্পত্তির সমপরিমাণ জমি বা সম্পদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল।

এ প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘শত্রু সম্পত্তি’ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈনদের মধ্যে এসব সম্পত্তি বণ্টন করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে তৎকালীন সরকার অন্যভাবে সম্পত্তি পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুধু কংগ্রেস নয়, উত্তর প্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টিকেও আক্রমণ করেন যোগী। তাঁর অভিযোগ, দলটি এমন ব্যক্তিদের পক্ষ নিয়েছে, যারা ভারতের স্বাধীনতা ও দেশভাগের সঙ্গে বিতর্কিতভাবে যুক্ত ছিলেন।

সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টির নেতা শিবপাল যাদবের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে যোগী বলেন, ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে দলটি ক্ষমতায় এলে আজম খানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হবে বলে বলা হয়েছে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে সমাজবাদী পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

যোগীর দাবি, যেসব রাজনৈতিক শক্তি ভারতকে দুর্বল করতে চায়, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের প্রচারণার বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরা নাগরিকদের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


সময়ের আলো/কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  কেএইচ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: