সরকারের বড় উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করা ঠিকাদাররা যথাযথভাবে কর ও ভ্যাট পরিশোধ করছেন কি না, তা যাচাইয়ে বড় পরিসরে অনুসন্ধান শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরের চলমান প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)।
সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) কাছে চলমান প্রকল্পের নাম, ধরন, উন্নয়ন সহযোগী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম, বিআইএন, টিআইএন, প্রকল্প ব্যয় ও শুরুর তারিখসহ তথ্য চেয়েছে সিআইসি। একই ধরনের তথ্য অন্যান্য সরকারি দফতরের কাছেও চাওয়া হয়েছে।
সিআইসি জানিয়েছে, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদাররা যথাযথভাবে সরকারি রাজস্ব জমা দিচ্ছেন না। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পের ব্যয় ও ঠিকাদারদের কর-ভ্যাট নিবন্ধনের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।
সিআইসির এক কর্মকর্তা বলেন, কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেই তথ্যের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিআইএন ও টিআইএন মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট ও আয়কর-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এনবিআরের উদ্যোগটিকে গুরুত্বপূর্ণ, তবে বিলম্বিত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি টিবিএসকে বলেন, এ উদ্যোগ আরও অনেক আগেই নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে ঠিকাদারদের ভ্যাট ও কর পরিশোধ যাচাইয়ের এই উদ্যোগ যথেষ্ট শক্তিশালীভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের উদ্বেগজনক কর-জিডিপি অনুপাতের সমস্যা মোকাবিলা ও প্রতিরোধের উপায় চিহ্নিত করতে এটি সহায়ক হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যথাযথ তদন্তে কর, ভ্যাট ও শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে এনবিআরের অসাধু ব্যক্তিদের যোগসাজশের প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
সওজের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, রেল, নৌপরিবহন, পানিসম্পদ ও গণপূর্তসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন প্রকল্পও এই অনুসন্ধানের আওতায় আসছে। রাজস্ব ঘাটতির চাপের মধ্যেই ঠিকাদারদের মাধ্যমে আদায়যোগ্য কর-ভ্যাট নিশ্চিত করতে এই তৎপরতা জোরদার করেছে এনবিআর।
সময়ের আলো/এমকে