সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় ও স্থানীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শুক্রবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও মহানগরে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও আশু আরোগ্য (বা আত্মার মাগফিরাত) কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ১৬ আগস্ট সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি।
বেগম খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম ছিল খালেদা খানম এবং ডাকনাম ছিল ‘পুতুল’। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের পৈতৃক বাড়ি ফেনীতে হলেও, শৈশবের কিছু সময় তিনি জলপাইগুড়িতে আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তাদের পরিবার দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেখানে তিনি মিশনারি স্কুল ও দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণ করেন।
১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা (পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান) এর সঙ্গে তার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর, বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন এবং বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৮৩ সালে তার নেতৃত্বে বিএনপি একটি যুগপৎ জোট গঠন করে তৎকালীন এরশাদবিরোধী আন্দোলন জোরদার করে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আপসহীন আন্দোলনের কারণে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।
১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর, ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তিনি আরও দুই দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনের শেষভাগে এসে খালেদা জিয়াকে বহু প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০০৭ সালের ১/১১-এর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি কারাবন্দি হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পুনরায় কারাবন্দি হন। এরপর দীর্ঘদিন নানা শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যান তিনি।
খালেদা জিয়ার জন্মদিনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও ছাত্রদলের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তার অবদান স্মরণ করা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরা।
সময়ের আলো/জোই