খালেদা জিয়া নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি : ইশরাক হোসেন

ক্রীড়া ডেস্ক

রাজনীতি

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নীতি, আদর্শ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে

2026-08-15T21:59:08+00:00
2026-08-15T21:59:08+00:00
 
  শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
রাজনীতি
খালেদা জিয়া নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি : ইশরাক হোসেন
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম 
নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক দোয়া মাহফিল । ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নীতি, আদর্শ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। প্রতিকূল পরিস্থিতি ও নানা ধরনের সমঝোতার প্রস্তাবের মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে যাননি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিজের কয়েকটি সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ২০১৫ সালে প্রথমবার গুলশান কার্যালয়ে তাঁকে ডেকে নিয়ে একান্তে কথা বলেছিলেন খালেদা জিয়া। তখন তাঁর বাবা সাদেক হোসেন খোকা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন ছিলেন। খালেদা জিয়া তাঁর বাবার শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চান এবং দেশে না ফেরার পরামর্শ দেন।

এরপর ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া তাঁকে তাঁর বাসভবনে ডেকে নেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে রোজার ঈদের পরদিন গুলশানের বাসভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। তখন তিনি খালেদা জিয়ার কাছে দিকনির্দেশনা চান। ইশরাক হোসেন বলেন, ‘উনি খুব কম কথা বলেছিলেন। আমাকে খালি বললেন, সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করো আর এলাকায় সময় দাও বেশি।’


ইশরাক হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার ওই দুটি নির্দেশনার মধ্যে তিনি অনেক তাৎপর্য খুঁজে পেয়েছিলেন। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার শিক্ষা পেয়েছেন। আর এলাকায় বেশি সময় দেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে রাজনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করার দিকনির্দেশনা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের তৃণমূল জনগণের সঙ্গে, যাদের জন্য আমরা রাজনীতি করি, যাদের সমর্থনে আজকে আমরা সরকার গঠন করেছি, তাঁদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখি এবং তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা, চাওয়া-পাওয়া, সুখ-দুঃখকে বেশি অগ্রাধিকার দিই, তাহলে আগামী দিনে আমাদের রাজনৈতিক পথচলায় আমরা ভালো করতে পারব।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে কিছুটা হতাশা রয়েছে। তবে নিজেদের চাওয়া-পাওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আগে বাংলাদেশের জনগণ যে কারণে তাঁদের ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, তা মনে রাখতে হবে। বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের সময়ে জনগণের যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল, সেগুলো নিরসনে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়াকে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র দখলের ঘটনায় মেজর জিয়ার সঙ্গে থাকা সৈনিকদের বিষয়ে খালেদা জিয়ার দৃঢ় ভূমিকার কথা তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েকজনের কাছ থেকে সরাসরি শুনেছেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এটা প্রমাণ করে দেয় যে বাংলাদেশের প্রশ্নে, বাংলাদেশের দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তাঁকে একজন বিশেষ নেতৃত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন।’


বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, এত ঝড়-ঝঞ্ঝা ও বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে কোনো আপস করেননি। তাঁর লিভার সিরোসিস এবং বয়স সত্ত্বেও তাঁকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল এবং নির্জন কারাগারে বছরের পর বছর রাখা হয়েছিল।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন,  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে মামলা তুলে নেওয়া ও কারাগার থেকে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আগে ওকে বল পদত্যাগ করতে, তারপরে অন্য সব বিষয় নিয়ে কথা হবে।’

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘অর্থাৎ উনি নীতি-আদর্শ, দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের প্রশ্নে কোনো দিনও আপস করেননি।’

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অবদান এবং খালেদা জিয়ার অবদানকে ধারণ করতে হবে। তাঁর দাবি, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরিতে খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগের বড় ভূমিকা রয়েছে।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘মূল নায়কের যদি কেউ থাকে, মূল কৃতিত্বের দাবিদার যদি কেউ থাকে, সবার আগে এক নম্বরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই কৃতিত্বটা অবশ্যই দিতে হবে। কারণ তিনি তাঁর আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট রচনা করেছিলেন।’


মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আদর্শের প্রশ্নে আপস না করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল রাষ্ট্র গঠনের প্রথম মূল স্তম্ভ। পরবর্তী সময়ে একাধিক গণঅভ্যুত্থান হলেও কোনোভাবেই মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তার তুলনা বা সমতুল্য করা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘নীতির এবং আদর্শের প্রশ্নে আমরা একচুল ছাড় দেব না।’ ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা ও ২০২৪ সালে নতুন করে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে - এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধেও সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 বাংলাদেশের পক্ষে যত আন্দোলন হয়েছে, বিএনপি সবগুলোতে জনগণের কাতারে ছিল দাবি করে ইশরাক হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান থেকে শুরু করে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বর্তমান অবস্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রশ্নে বিএনপি অবস্থান নিয়েছে।

সময়ের আলো/টিকে


  বিষয়:   খালেদা জিয়া  নীতি  ইশরাক হোসেন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: