বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে চার নেতা, ফাঁকা ৩ পদ

সাব্বির আহমেদ

রাজনীতি

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে স্থান পেলেন দলের চার নেতা। তারা হলেন- রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ

2026-08-16T01:18:52+00:00
2026-08-16T01:18:52+00:00
 
  রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
রাজনীতি
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে চার নেতা, ফাঁকা ৩ পদ
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৮ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে স্থান পেলেন দলের চার নেতা। তারা হলেন- রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ। তাদের মধ্যে রিজভী এতদিন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমান বিএনপির রাজনীতির দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। 

তবে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাওয়া সাবেক সচিব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারকে নিয়ে অনেকের মনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। মূলধারার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে দৃশ্যমান না থাকার পরও তারা কীভাবে স্থায়ী কমিটিতে স্থান করে নিলেন সেটা নিয়ে কারও কারও মনে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। 

তবে বিএনপির সূত্র জানায়, প্রশাসন ও চিকিৎসা পেশায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এই দুই নেতা বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত দীর্ঘদিন ধরে। এই দুই পেশাজীবীকে নীতিনির্ধারণী ফোরামে অন্তর্ভুক্ত করে নেতৃত্বের ভিন্নতা আনল বিএনপি।  

শনিবার বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার নেতাকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।  বিএনপি আশা প্রকাশ করে যে, চার নেতা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার দ্বারা সুচিন্তিত পরামর্শের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।

আমলা থেকে নীতিনির্ধারক : সাবেক সচিব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোক্তার বাড়ি। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন তিনি। এর আগে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

অবসর নেওয়ার পর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন ইসমাইল জবিউল্লাহ। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাওয়ার আগে বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। প্রশাসনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সমন্বয়ে এবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণি ফোরামে স্থান পেলেন সাবেক এই আমলা।


চিকিৎসক থেকে সর্বোচ্চ পদ : অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার মূলত চিকিৎসক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ পেশাগত জীবনে ক্যানসার চিকিৎসা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।  

ঢাকার আমিনবাজারে জন্ম নেওয়া ফরহাদ হালিম ডোনার দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ক্যানসার চিকিৎসা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অধ্যাপক ড. ফারহাদ হালিম উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজের (ইউএএমসি) গভর্নিং বডিরও চেয়ারম্যান।

স্থায়ী কমিটিতে এখনও ফাঁকা তিন পদ : গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে আগে থেকে ১৩ জন রয়েছেন। তারা হলেন- তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন। 

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জমির উদ্দিন সরকার গত ১২ জুলাই মারা গেছেন। নতুন চার সদস্য মিলিয়ে এখন সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। ২১ আগস্ট স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব পুরোপুরি ছাড়বেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। নির্বাচিত হলে তাকে দলীয় পদ ছেড়ে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে নতুন করে তিনজনের যাওয়ার পথ খুলবে।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঠিক হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হবেন, এ্ই আলোচনা এখন তুঙ্গে। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বচন। এরপরই ঠিক হবে দলের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কার কাঁধে ওঠে। তবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নামই এই যাত্রায় বেশি শোনা যাচ্ছে দলীয় মহলে। 

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হতে পারেন যারা : রুহুল কবির রিজভী এতদিন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ায় এই পদটি ফাঁকা হলো। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হতে পারেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেল ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সোহেল ও এ্যানি রাজপথের লড়াকু নেতা। হাবিব উন নবী সোহেল সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও এ্যানি পেয়েছেন মন্ত্রিত্ব। আর বিনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি হতে পারেন দলের যুগ্ম মহাসচিব বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।


প্রিন্স পেতে পারেন দফতরের দায়িত্ব : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আনুষ্ঠানিকভাবে পেতে পারেন দলের দফতরের দায়িত্ব। যদিও এই দায়িত্ব তিনি আগেও পালন করেছেন। বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ জনিকেও দেওয়া হতে পারে কেন্দ্রীয় দফতরের দায়িত্ব। এতদিন এই দায়িত্ব পালন করেছেন রুহুল কবির রিজভী।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   বিএনপি  স্থায়ী কমিটি  নেতা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: