ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করতে করতে শিশু পার্কের মোড়ে দাঁড়িয়ে কিংবা জ্যামে আটকে থাকা বাসের জানালায় হাত বাড়িয়ে একটা ঠান্ডা পানির বোতল কেনা শহরবাসীর খুব চেনা দৃশ্য। আমরা বোতলজাত পানি কিনে খাই, তারপর প্লাস্টিকের বোতলটি ছুঁড়ে ফেলি ডাস্টবিনে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন- যে পানির বোতলটা আপনি কিনলেন, তার প্লাস্টিকের ঢাকনার রঙ নীল, সাদা বা লাল হয় কেনো?
প্রথম দর্শনে মনে হতে পারে, এটা হয়তো স্রেফ বাহারি নকশা কিংবা কোনো কোম্পানির ব্র্যান্ডিংয়ের খেয়ালখুশি। কিন্তু বোতলের এই ছোট্ট রঙিন ক্যাপগুলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকে রসায়ন!
পানির প্রতিটি পাত্রের রঙের পেছনে রয়েছে নিজস্ব রসায়ন। যখনই আপনি একটি নীল ঢাকনার বোতল হাতে নেবেন, বুঝে নেবেন তা কোনো প্রাকৃতিক ঝরনা বা মাটির গভীরে থাকা খনিজসমৃদ্ধ উৎসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যা ক্লান্তি নিমিষেই ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু সাদা ঢাকনা? সেটি হলো আপনার চেনা ফিল্টার করা, অতি-পরিশোধিত সাধারণ পানি— যা শহরের আর দশটি রিফাইনারি পার হয়ে আপনার হাতের মুঠোয় এসেছে।
গল্পটা এখানেই শেষ নয়। জিম বা শরীরচর্চা শেষে কিংবা প্রচণ্ড তাপদাহে ডিহাইড্রেশন বা সোডিয়ামের অভাব দেখা দিলে লাল ঢাকনাযুক্ত বোতলটি হতে পারে আপনার জীবনরক্ষক; কারণ এতে থাকে রিচার্জিং ইলেক্ট্রোলাইটস। আর ভিটামিনসমৃদ্ধ জলের প্রতীক হলুদ ঢাকনা, যা শরীরে জোগায় পুষ্টি।
অন্যদিকে, যারা একটু ‘প্রিমিয়াম’ স্বাস্থ্যসচেতন, তাদের হাতে দেখা মেলে কুচকুচে কালো ঢাকনার বোতল— যার ভেতরের অ্যালকালাইন বা ক্ষারীয় পানি পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি মুহূর্তে দূর করতে সিদ্ধহস্ত। ব্যতিক্রম কেবল গোলাপি ঢাকনা, যা কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যবার্তা নয়, বরং ক্যানসার সচেতনতার মতো সামাজিক প্রচারণায় হাত মেলায়।
তবে শেষ কথা হলো, রঙিন ঢাকনার এই চকচকে দুনিয়ায় মোহিত না হয়ে চোখ রাখা চাই লেবেলের গায়ে। কারণ, শহরের ধূসর ধুলাবালিতে আপনি তৃষ্ণা মেটাতে কেমন পানি খাচ্ছেন, ঢাকনার রঙের চেয়ে তার বিশুদ্ধতার সনদপত্রই আপনার সবচেয়ে বেশি জরুরি!
সময়ের আলো/জেডি