জাতীয় ভাবধারা বিরোধী অপসংস্কৃতি প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিবিধ

জাতীয় ভাবধারা বিরোধী অপসংস্কৃতি প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হব। বৃহস্পতিবার

2026-08-13T17:26:25+00:00
2026-08-13T17:26:25+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬,
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
বিবিধ
জাতীয় ভাবধারা বিরোধী অপসংস্কৃতি প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় ভাবধারা বিরোধী অপসংস্কৃতি প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হব। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

বক্তারা বলেন, দেশীয় লোকজ সংস্কৃতির চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দেশের ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির সুষ্ঠু চর্চা জাতীয় ভাবধারা গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্প-সাহিত্যের প্রচার করা প্রয়োজন। 

সেমিনারে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির বলেন, সমাজে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক। বিভিন্ন সমাজ, মত ও পেশার মানুষের ভিন্ন ভিন্ন আদর্শ ও মতামত ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ফলে চিন্তা, চেতনা, বিশ্বাস, মতামত ও আচরণে পার্থক্য দেখা যায়, যা কখনো কখনো সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বিনষ্ট করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের কল্যাণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য সবার কাজ করা জরুরি।

তিনি বলেন, সমাজে সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষা জোরদার করতে হবে। সুস্থ ও গঠনমূলক সংস্কৃতি প্রচারে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের কল্যাণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে হবে, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টির জন্য নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে সবার মতামত শ্রদ্ধার সঙ্গে শুনতে হবে, অন্যথায় তিক্ততা, অসম্মান ও সংঘাত বৃদ্ধি পাবে। সংবাদের শিরোনাম ও মূল বিষয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য, চটকদার ভাষা (ক্লিকবেইট), তথ্যসূত্রের অনুপস্থিতি বা ভুয়া সূত্র এবং ঘৃণামূলক (হেইট স্পিচ) ও পক্ষপাতদুষ্ট শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, রাষ্ট্রের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি দেশের নাগরিকদের দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। টেলিভিশন, রেডিও ও পত্র-পত্রিকার সংবাদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি ও নাগরিকদের পরিচয় তুলে ধরা হয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, যেন কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক আচরণ প্রকাশ না পায়।

দৈনিক দেশ রূপান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি রেজাউল করিম লাভলু বলেন, আমরা বর্তমানে প্রায়শই অসহিষ্ণু আচরণ প্রদর্শন করছি, যা কাম্য নয়। এর ফলে জাতীয় ভাবধারায় গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাই দেশের সব নাগরিকের প্রতি অনুরোধ, তথ্যের সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (ফ্যাক্ট-চেকিং) না করে কোনো সংবাদ জনগণের সামনে উপস্থাপন করা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন। 


দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার ডেপুটি চিফ রিপোর্টার রফিক রাফি বলেন, বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক সংস্কৃতির প্রভাব কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য ও উপস্থাপনায় সামাজিক সংস্কৃতির যথাযথ প্রতিফলন না থাকায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। দেশের সাংবাদিকদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে যাদের অনুদান প্রদান করা হয়, তাদের গেজেটভুক্ত তালিকার মতো বার্ষিক কার্যক্রমের প্রকাশনা প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি টেলিভিশন ও পত্রিকার সাংবাদিকদের সঙ্গে মোবাইল সাংবাদিকদের কার্যক্রমের পার্থক্য বিবেচনায় পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে দেশের জাতীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও সুন্দর করে সামাজিক দায়বদ্ধতার সাথে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশের সাংবাদিকদের জাতীয় ভাবধারা ও সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক চর্চা ও সঠিক সামাজিক সংস্কৃতি তুলে ধরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। তাই সামাজিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি জাতীয় গণতন্ত্র রক্ষায় সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা একান্ত কাম্য।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. এম মহসীন, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার চিফ ফটো জার্নালিস্ট নাসিম শিকদার। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এ বি এম রফিকুল ইসলাম।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   অপসংস্কৃতি  প্রতিরোধ  গণমাধ্যম  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: