কানাডায় পড়তে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন শুধু ব্যাংক হিসাবে প্রয়োজনীয় টাকা থাকলেই হবে না, সেই টাকা কোথা থেকে এসেছে, কতদিন ধরে আছে এবং এর পক্ষে যথেষ্ট নথি রয়েছে কি না— এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে স্টাডি পারমিটের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম অর্থের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। মূল পরিবর্তন হলো, আবেদনকারীর অর্থের উৎস ও হিসাবের স্বচ্ছতার ওপর বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে।
অর্থের উৎসও এখন গুরুত্বপূর্ণ
আগে যেসব আবেদনকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হতো, সেগুলোর ক্ষেত্রে বাড়তি আর্থিক যাচাইয়ের ওপর বেশি জোর দেওয়া হতো। এখন আরও বেশি আবেদনকারীর আর্থিক নথি বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হতে পারে।
ব্যাংক হিসাবে হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা জমা হওয়া, লেনদেনের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্য থাকা কিংবা টাকার উৎসের পক্ষে যথেষ্ট কাগজপত্র না থাকলে অভিবাসন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত ব্যাখ্যা চাইতে পারেন।
অ্যাপ্লাইবোর্ডের এক বিশ্লেষণে ১ হাজার ৩৭০টি স্টাডি পারমিট প্রত্যাখ্যানের চিঠি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ৪৭ শতাংশ আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আর্থিক প্রমাণ না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, অনেক আবেদনকারীর কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ থাকলেও সেটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, যা অভিবাসন কর্মকর্তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে।
কোন নথিগুলো কাজে আসতে পারে?
স্টাডি পারমিটের আবেদন শক্তিশালী করতে আর্থিক অবস্থার পরিষ্কার প্রমাণ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে থাকতে পারে—
গ্যারান্টিড ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেট (জিআইসি)
গত ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট
স্পনসরের চাকরির প্রমাণপত্র
স্পনসরের গত তিন মাসের বেতন স্লিপ
ব্যাংকে হঠাৎ বড় অঙ্কের টাকা জমা হলে সেই অর্থের উৎসের লিখিত ব্যাখ্যা
বিশেষ করে ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ হঠাৎ জমা হলে সেটি কোথা থেকে এসেছে, তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা ও প্রমাণ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদন কমেছে, তবে অনুমোদনের হার বেড়েছে
কানাডায় স্টাডি পারমিটের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সংখ্যা কমলেও অনুমোদনের হার বেড়েছে।
বর্ডারপাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নতুন স্টাডি পারমিটের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কমেছে।
তবে একই সময়ে অনুমোদনের হার ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ
কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে শিক্ষার্থীদের আর্থিক নথি প্রস্তুত করতে আরও সহায়তা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নতুন ও দ্রুত বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজার থেকে শিক্ষার্থী নেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, কানাডায় পড়তে যেতে চাইলে শুধু প্রয়োজনীয় টাকা ব্যাংকে রাখাই যথেষ্ট নয়। টাকার বৈধ উৎস, ব্যাংক লেনদেনের ধারাবাহিকতা এবং সেই অর্থের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক রাখা এখন স্টাডি পারমিট পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ