প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর আপাতত বাতিল

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লিসফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি

2026-08-16T17:55:36+00:00
2026-08-16T18:03:16+00:00
 
  রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর আপাতত বাতিল
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম  আপডেট: ১৬.০৮.২০২৬ ৬:০৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।

তবে, তিনি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দেননি। ফলে তার ভাষায় ‌‘দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ’ থাকা সত্ত্বেও কেন এখন সফরটি হচ্ছে না তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আভাস দিয়েছিল যে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন তারেক রহমান। পাশাপাশি ঢাকায় বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রস্তুতি নেওয়ার আভাস দিয়েছিলেন।

এদিকে এ কে এম শহীদুল করিম বলেছেন, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহিদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।

এ কে এম শহীদুল করিম সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে উভয় দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে। তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত পাঁচই আগস্ট নতুন দিল্লিতে যেভাবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে এই প্রক্রিয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সকল দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের বাংলাদেশ ফার্স্ট (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখব।

তবে, ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দেননি। ফলে তার ‘ভাষায় দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ’ থাকা সত্ত্বেও কেন এখন সফরটি হচ্ছে না তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। এমন প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা-দিল্লি, দুই পক্ষ থেকেই সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল।

বিশেষ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি এবং তারও আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

পরে বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লী সফর করেন। সব মিলিয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই আস্থা বৃদ্ধির চেষ্টা দেখা গেছে।

কিন্তু এর মধ্যেই দুই সরকারের মধ্যে অস্বস্তির বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায় দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ওই সংবাদ সম্মেলনের একদিন আগেই শেখ হাসিনা যাতে ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার করতে না পারে, সে বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেশটির সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিল বাংলাদেশের সরকার।

পাঁচই অগাস্ট নয়া দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব এফসিসি সাউথ এশিয়া ওই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে পরপরই শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে কথা বলার দিনেই রাতে কড়া ভাষায় একটি বিবৃতি দেয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তারেক রহমানের সরকার শুরু থেকেই ভারতে থাকা শেখ হাসিনার বক্তব্য বিবৃতি দেওয়াসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বিভিন্ন সময় দিল্লিকে অনুরোধ জানানোর কথা সরকারের দিক থেকে বলা হচ্ছিল।

ভারতের পক্ষ থেকে বার বারই বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে বাংলাদেশের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে তারা।

এমন পটভূমিতে গত ১০ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ত্রিবেদী ঢাকায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর সাথে এটাই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

ওই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়৷ বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।

আর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা এখন সামনের দিকে তাকাচ্ছেন।

তিনি তখন বলেছিলেন, (তারেক রহমানের ভারত সফর বিষয়ে) আমাদের আমন্ত্রণ তো আগে থেকে আছে। ভারতের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী আর লুকিং ফরোয়ার্ড, অ্যান্ড উই আর পজিটিভ। দুই নেতা  বসলে আলোচনা হলে... ডেমোক্রেসিতে ইস্যু থাকবে। ইস্যু না থাকলে ওটা ডেমোক্রেসি না। আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই - ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হবে উইন উইন সিচুয়েশনে।

ওই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাত করেন দীনেশ ত্রিবেদী, যা তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে গুঞ্জন আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক ভাবেই জানালো যে পরিবেশ আরও অনুকূল হওয়ার প্রয়োজন দেখছে বাংলাদেশ। আর সেই অনুকুল পরিবেশের শর্ত হিসেবেই মূলত বিবৃতিতে ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের হস্তান্তরের’ শর্তই ঢাকা তুলে ধরেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন যে, তারেক রহমানের দিল্লি সফরের প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ফিরিয়ে এনে আলোচনার পরিবেশ তৈরি।

এখন ঢাকার দিক থেকে অনুকূল পরিবেশ এবং সেজন্য কার্যত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ দুটি শর্ত তুলে ধরার পর দিল্লির প্রতিক্রিয়া কেমন হয় তা নিয়েই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা




  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমান  বাংলাদেশ ভারত 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: