চট্টগ্রামের পটিয়ায় সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন ৬ শতক জমি প্রায় আট বছর ধরে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. সিরাজের বিরুদ্ধে। জমিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে, তা ভাড়া দিয়ে ভোগদখল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন জমির মালিক।
ভুক্তভোগীর দাবি, পটিয়া আসনের সাবেক হুইপ ও আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরীর সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে তার জমি দখলে রাখা হয়েছে।
মোহাম্মদ হাসান জানান, তিনি প্রবাসে থাকার সুযোগে তাকে না জানিয়ে জমিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে তা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। গত ৮ বছর ধরে তার পরিবারের কাউকে জমির কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। জমিটির মালিকানাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও জমির দখল ফিরে পাননি তিনি।
জমির মালিক মোহাম্মদ হাসানের পক্ষে পাওয়ার অব অ্যাটর্নিপ্রাপ্ত প্রতিনিধি আবদুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে মো. সিরাজের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও তিনি বৈঠকে বসতে রাজি হননি। গত বৃহস্পতিবার জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গেলে, সিরাজের লোকজন তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় তারা ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে সরে যান।
তিনি আরও জানান, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর ওইদিন রাতে সিরাজ তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সিরাজ ৩ গন্ডা জমির মূল্য ১৫ লাখ টাকার বেশি দেবেন না বলে জানান। পরে তার লোকজনের মাধ্যমে টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘জমি দখলের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানোয় বর্তমানে আমরা নিয়মিত হুমকির মুখে রয়েছি। আমরা নিজেদের মালিকানাধীন জমি দখলমুক্ত করে ফিরে পেতে চাই। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’
সরেজমিনে গিয়ে এবং জমির সাফ বিক্রয় কবলা দলিলসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের জিরি মৌজার জিরি মাদরাসা সড়কের পাশে পূর্ব মালিয়ারা বাজারের পূর্ব দিকে সেই ৬ শতক জমি রয়েছে।
২০১৪ সালের ১৯ আগস্ট পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত সাফ বিক্রয় কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ হাসান ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জমিটি মোহাম্মদ হাসানের নামে নামজারি করা হয়।
সর্বশেষ, ২০২৬ সালের ২৬ জুন ওই জমির ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনাও মোহাম্মদ হাসানের নামে পরিশোধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘সিরাজ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় জমি দখল ও কম দামে জমি কেনার সঙ্গে জড়িত। আগে সিরাজের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকলেও বর্তমানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।’
তবে, স্থানীয় বাসিন্দার এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সিরাজ বলেন, ‘জমির মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি। ওই ৩ গন্ডা জমির দাম ১৫ লাখ টাকা বলেছি। তারা রাজি হয়নি।’
সময়ের আলো/মহু