জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচিত নেতাদের পদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হলে অবস্থানের সুযোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন জাকসুর নেতারা। আল্টিমেটামের আট দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাকসুর নেতারা।
এর আগে জাকসু নেতাদের হলে অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। আল্টিমেটামের পরদিন উপাচার্যের সঙ্গে প্রশাসনের একটি সভা অনুষ্ঠিত হলেও সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহার বলেন, আমরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরের দিন ভিসি স্যার একটি সভা করেন এবং সেখানে একটি সিদ্ধান্তে আসেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি অফিসিয়ালি প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে গত পরশু আমরা স্যারের কাছে যাই। তখন স্যারকে বলে এসেছি, দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দিলে আমরা আন্দোলনে যাব।
তিনি আরও বলেন, আসলে জাকসুর আর অল্প কিছুদিন সময় আছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই প্রশাসন এ বিষয়ে এমন দেরি করছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আমরা একটি সভা করেছি এবং সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যে প্রজ্ঞাপনটি দেওয়া হয়েছিল, সেটি বাতিল করার বিষয়ে সভায় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত ছিল। তবে আমরা সেটি সমাধান করেছি এবং একটি সিদ্ধান্তে এসেছি। খুব দ্রুতই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ বক্তব্যের পরও এখন পর্যন্ত কোনো প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় জাকসু নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) শিক্ষার্থী মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হলে অবস্থান করাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন কিছু শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিয়ে জাকসু নেতারা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।
এদিকে জাকসুর বর্তমান মেয়াদের সর্বোচ্চ আর এক মাসের মতো সময় বাকি রয়েছে। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিষয়টির প্রশাসনিক সমাধান হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জাকসু নেতারা বলছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হলে তারা আন্দোলনের কর্মসূচিতে যাবেন।
সময়ের আলো/আতা