খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

খুলনা ব্যুরো

সারাদেশ

খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপে বাড়ায় সরকারি-বেসরকারি সকল হাসপাতালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে শয্যা সংকটের। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা দ্বিগুন বাড়িয়ে

2026-08-17T20:32:08+00:00
2026-08-17T20:45:55+00:00
 
  সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড়
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩২ পিএম  আপডেট: ১৭.০৮.২০২৬ ৮:৪৫ পিএম
খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। ছবি : সময়ের আলো
খুলনায় ডেঙ্গুর প্রকোপে বাড়ায় সরকারি-বেসরকারি সকল হাসপাতালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে শয্যা সংকটের। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা দ্বিগুন বাড়িয়ে ৫০০ তে উন্নীত করা হলেও রোগীর চাপ ৫ গুনেরও বেশি। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের, খালি নেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোও। বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনরা।

ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ২২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গত তিনদিন আগে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে খুলনার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য বেড খুঁজেছি। কোথাও কোনো বেড খালি না পেয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি এখানেও বেড নাই। তাই এই বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছি

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত সুজাতা বলেন, আমি ২৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গত দুইদিন আগে আমার ডেঙ্গু ধরা পড়ে এরপর সিটি মেডিকেল সহ কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করে বেড না পেয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই। এখানেও বেড খালি নেই তাই চিকিৎসার জন্য বারান্দায় থাকতে হচ্ছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগী বেশি হলেও চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। ওষুধ, কিট পর্যাপ্ত। রোগীর চাপ আরও বাড়লে নিচতলায় জরুরি বিভাগে পৃথক ইউনিট খোলার প্রস্তুতি আছে এ হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা থেকে উন্নত করে ৫০০ শয্যা করা হলেও বর্তমানে প্রায় ২৮০০ থেকে ২৯০০ রোগী রয়েছে। এতে শয্যা সংকটের সাথে সাথে ডাক্তার সহ অন্যান্য লোকবল সংকট দেখা দিয়েছে।


ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের জন্য চারটি ওয়ার্ডকে রেড জোন বা ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। কেসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, ৩০, ২৯, ২৮ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী সবচেয়ে বেশি সেখানে মশক নিধনে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। মশার লার্ভা জন্মানোর মতো নোংরা পরিবেশ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে।

কেসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১০০ জন। পাশাপাশি রেড জোনে থাকা ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৮০ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন। এর বাইরে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ১৭, ১৮, ২৩, ২৪ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এই পাঁচ ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬৮। কম ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা ১৫, ২০, ২৫ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ১১৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বিবেচনা করে চারটি ওয়ার্ডকে রেড, পাঁচটি ওয়ার্ডকে কমলা ও চারটি ওয়ার্ডকে হলুদ জোন ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০টি ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রের সাহায্যে মশক নিধন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত স্থান ও বড় নালার মশা মারতে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি হুইল ব্যারো ফগার মেশিন (ধোঁয়া দিয়ে মশা মারার যন্ত্র) ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কেসিসি তৎপরতা ও মশক নিধনে বিশেষ কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্থাপনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কেসিসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম বলেছেন, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর বড় বড় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিদিন ডেঙ্গু শনাক্তের রিপোর্ট কেসিসিতে পাঠায়। ডেঙ্গু পরীক্ষার পর পজিটিভ হওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।


নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ডেঙ্গুর উপদ্রব বেড়েছে। মৌসুম আসার আগেই আমরা বারবার মশক নিধনে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছিলাম। কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যেটুকু মশক নিধন অভিযান চালানো হয়েছে, সেটিরও সুফল দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, কেন মশার ওষুধ কার্যকর হচ্ছে না, সেটি আগে খুঁজে বের করা দরকার। সেই সঙ্গে নিয়মিত নালা পরিষ্কার না করেই ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কেসিসিকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজানো প্রয়োজন।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি কুদরত ই খুদা বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ তৎপরতা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ইতিবাচক। কিন্তু উপদ্রব বাড়ল কেন? কার গাফিলতিতে ঘরে ঘরে ডেঙ্গু বাড়ছে, সেটি খুঁজে বের করা প্রয়োজন। কেসিসির সঙ্গে নগরবাসীকেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সময়ের আলো/আতা/কেএইচও


  বিষয়:   খুলনা  ডেঙ্গুর প্রকোপ  হাসপাতাল  উপচে পড়া ভিড়  খুমেক  সময়ের আলো  ডেঙ্গু 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: