চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ দল দ্বিতীয় দিনের মতো ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি পরিদর্শন করেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে বর্তমানে জাহাজটির ভেতরে কোনো বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার জানান, বিশেষজ্ঞ দলের সাত সদস্য বেলা ১১টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে প্রবেশ করেন। জাহাজের ৮ বাই ৮ ইঞ্চির একটি কাটা অংশ পরীক্ষা করে দেখা যায়, ওই অংশটি পুরোপুরি কাটার কাজ শুরু হওয়ার পরপরই মূল দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। যে ছিদ্র দিয়ে গ্যাস নির্গত হয়েছিল, বর্তমানে সেখান থেকে কেবল পানি বের হচ্ছে। অত্যাধুনিক গ্যাস ডিটেক্টর দিয়ে একাধিকবার তল্লাশি চালালেও সেখানে ক্ষতিকর কোনো গ্যাস বা উপাদানের সন্ধান মেলেনি।
তবে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, গত শুক্রবার জাহাজ কাটার সময় ট্যাংকের ভেতরে আগে থেকেই জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এ দিনের বিশেষ পরিদর্শনে কারিগরি সহায়তা দিতে ‘প্রান্তিক মেরিন’ ও ‘আলিফ মেরিন’ নামের দুটি উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের যুক্ত করা হয়। এ সময় দুর্ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার কারণ ও ভয়াবহতা উদ্ঘাটনে শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মালিক সমিতিসহ বেশ কয়েকটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত খান, মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমেদ, বিস্ফোরক অধিদফতরর, পরিবেশ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং অথরিটির (বিএসবিআরএ) প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বিশেষজ্ঞ দল কাজ করে যাচ্ছে। সবকটি কমিটিই বর্তমানে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই