সংস্কারের অভাবে ১৫ কিমি সড়ক এখন মরণফাঁদ

পাবনা সংবাদদাতা

সারাদেশ

সংস্কারের অভাবে পাবনার আতাইকুলা-ডেমরা আঞ্চলিক সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এখন জেলার সাঁথিয়া, ফরিদপুর

2026-10-03T23:51:10+00:00
2026-10-03T23:51:10+00:00
 
  রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
সংস্কারের অভাবে ১৫ কিমি সড়ক এখন মরণফাঁদ
পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
সংস্কারের অভাবে পাবনার আতাইকুলা-ডেমরা আঞ্চলিক সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এখন জেলার সাঁথিয়া, ফরিদপুর ও আতাইকুলা থানার প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তির সবচেয়ে বড় কারণ। খানাখন্দ ও বিশালাকৃতির গর্তে ভরা এই সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। সাধারণ মানুষের যাতায়াত, কৃষি পণ্য সরবরাহ, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া ও জেলা শহরে যাতায়াতে ভোগান্তির শেষ নেই সংশ্লিষ্টদের। ফলে দ্রুতই সড়কটি সংস্কার বা নির্মাণের দাবি উঠেছে।

এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ৯০ দশকে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নির্মাণের পর সাত বছর আগে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সর্বশেষ সংস্কার হয়েছিল। কয়েক বছর সংস্কারের সুফল মিললেও গত ২-৩ বছরে খানাখন্দ ও বিশালাকৃতির গর্তে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে সড়কটি।

স্থানীয়রা বলছেন, তিন থানার মানুষের স্বাভাবিক প্রয়োজনের বাইরেও সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা ও দূরত্ব কম হওয়ায় সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ির তেলের ডিপোর গাড়ি এই সড়ক হয়ে পার্শ্ববর্তী নাটোর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করে। এ ছাড়া দেশের স্বনামধন্য কাপড়ের বাজার শাহজাদপুর ও আতাইকুলা হাটের ব্যবসায়ীদের যাতায়াত ও পণ্য আনা নেওয়ার সবচেয়ে বড় রুট এই আঞ্চলিক সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল পড়ে আছে। এ ছাড়া কৃষিপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিক্রয় কেন্দ্র ধুলাউড়ি হাঁট ও কাপড়জাত পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ আতাইকুলা হাটে পণ্য সরবরাহ কাজে ব্যবহৃত ভ্যান ও অটোবাইকগুলো প্রতিনিয়ত পড়ছে দুর্ঘটনার কবলে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াসহ জনসাধারণ বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যান দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে নিয়মিত। ঘন ঘন গাড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ায় চালকদের ব্যয় বাড়ছে আবার যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। ব্যয় বাড়ছে যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও।

ফরিদপুরের ডেমরা এলাকার চাষি মো. হানিফ বলেন, এসব এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। এই সড়ক ধরে ধুলাউড়িসহ বিভিন্ন বাজারে আমাদের কৃষিপণ্য আনা নেওয়া করতে হয়। কিন্তু সড়কের যা অবস্থা, তাতে মানুষ চলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সেখানে পণ্যবোঝাই গাড়ি চলাচল তো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেড়ার চতুর হাটসহ অন্যান্য হাটে যেতেও ভোগান্তি ও ব্যয়ের শেষ নেই। অথচ এতদিনেও কেউ সড়কটির দিকে তাকাচ্ছে না। 

কলেজ শিক্ষার্থী রিপন, আরমান ও তৌহিদা জামান জানান, এই সড়ক দিয়েই তারা কলেজ ও পাবনা শহরে যাতায়াত করেন। এমনকি জেলার একমাত্র জেনারেল হাসপাতালেও এদিককার মানুষকে এই সড়ক ধরে যেতে হয়। কিন্তু চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই। বৃষ্টির দিনে কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলায় চলা কঠিন। লাখ লাখ মানুষের চলাচলের এই সড়কজুড়ে বড় বড় গর্তে আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এ ক্ষেত্রে দ্রুতই এই সড়ক সংস্কারের দাবি তাদের।

অটোরিকশার চালক বিপ্লব বলেন, কয়েক দিন আগে একটা রিজার্ভ নিয়ে যাওয়ার সময় আমার অটো ভেঙে অকেজো হয়ে পড়ে। পরে লোন নিয়ে গাড়ি ঠিক করতে হয়েছে। এরকম দুর্ঘটনা অহরহই ঘটে। তবু কারও ভ্রুক্ষেপ নেই।

সড়কে চলাচলকারী কয়েকজন সিএনজিচালক জানান, পেটের দায়ে ঝুঁকি নিয়ে এই রোডে সিএনজি চালাচ্ছেন তারা। আগে দুই মাসে একবার গ্রিজ করতে হতো, এখন মাসে দুইবার গ্রিজ করতে হয়। গাড়ির ডেমারেজ ও গ্যাস খরচ বাদ দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের।

তবে দ্রুত এই সড়ক সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। দফতরটির পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   সংস্কার  অভাব  সড়ক  মরণফাঁদ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: