চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ৯ শ্রমিকের প্রাণহানির পর ঝুঁকি না কমায় ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে’র সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দুর্ঘটনাকবলিত স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতরের বিষাক্ত গ্যাসের নমুনা পরীক্ষা ও চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত শিপইয়ার্ডটিতে সকল কার্যক্রম ও প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম জানান, জাহাজের ভেতরের বিষাক্ত গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই শিপইয়ার্ডের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলের রাব্বি বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটিসহ একাধিক টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। তবে, ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া গ্যাসটির ধরণ বা দুর্ঘটনার মূল কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া, জাহাজের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনো নিরাপদ না হওয়ায় ইয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ১৪ আগস্ট ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে একটি পুরনো জাহাজের বদ্ধ ট্যাংকে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন শ্রমিকরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনার পর জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা এবং কাজ শুরুর আগে সঠিকভাবে ‘গ্যাস ফ্রি’ বা বিষাক্ত গ্যাসমুক্ত করার নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকার ল্যাব রিপোর্ট ও তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই ইয়ার্ডের ভবিষ্যৎ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/মহু