গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কীটনাশকের দোকান থেকে ওষুধ কিনে ধানখেতে প্রয়োগের পর কৃষক মো. কামরুজ্জামানের ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী কৃষক কামরুজ্জামান উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত কীটনাশক বিক্রেতা মো. মাহবুর মিয়া একই ইউনিয়নের বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা।
কৃষক কামরুজ্জামানের অভিযোগ, ধানখেতে আগাছা দেখা দেওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কর্মকর্তাকে না পেয়ে মাহাবুর মিয়ার দোকানে গিয়ে আগাছানাশক চান। তখন তাকে ‘এরাক্সন ২০০ এসএল’ নামের ১০০ মিলিলিটারের একটি ওষুধ দেওয়া হয়। পরে দোকানদারের পরামর্শ অনুযায়ী ১৩ আগস্ট সেটি ধানখেতে প্রয়োগ করেন তিনি।
কৃষকের দাবি, ওষুধ প্রয়োগের পরদিনই ধানের চারাগুলো মরে যেতে শুরু করে। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেন।
কীটনাশক বিক্রেতা মাহাবুর মিয়া বলেন, ‘আমি ওষুধ দিতে ভুল করিনি। কারণ, সে আমার কাছ থেকে খাওনা বাড়ির (ফাঁকা জমি) ঘাস মারার কথা বলে ওষুধ নিয়েছিল।’
সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ধানখেত পরিদর্শন করেছি। সব ধানের চারা মারা গেছে। এ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছি।’
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে অফিসে যেতে পারিনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওষুধটি এবং এর প্রয়োগ পদ্ধতি সঠিক ছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। তাহলেই বোঝা যাবে, কেন আগাছা নষ্ট না হয়ে ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া এ ধরনের ওষুধ বিক্রি করা যায় না। ওই বিক্রেতার লাইসেন্স আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সময়ের আলো/মহু