ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মাসব্যাপী বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক চিহ্নিত নগরীর ৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি সার্বিক তদারকিতে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে নগরীর সেন্ট প্ল্যাসিডস স্কুলের সামনে থেকে চসিকের এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন জানান, গত ৫-৬ মাস ধরে বিটিআই (BTI) ব্যবহারের ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেকটাই কমেছে। গত বছরের এই সময়ে যেখানে সিটি করপোরেশন এলাকায় রোগী ছিল ৮০০-এর বেশি এবং মৃত্যু হয়েছিল ৮ জনের, সেখানে চলতি বছর রোগীর সংখ্যা ৫৮০-এর নিচে এবং মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য।
তিনি আরও জানান, নগরীর ২, ৩, ১৭, ১৮, ১৯, ৩২, ৩৪ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, লার্ভা নিধন ও মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো হবে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন বা বাসা-বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন নিয়োজিত ১০ ম্যাজিস্ট্রেট।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পুরো কার্যক্রম সরাসরি মনিটর করছেন। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থায়িত্ব আনতে হলে বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা বা ফুলের টবে পানি জমতে না দেওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নগরবাসীর সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন বালক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানাসহ চসিক এবং রেড ক্রিসেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/টিকে