দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে উদ্ধার হওয়া কন্যাশিশু মুশফিকা আক্তার তাসফিয়ার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হয়েছে। মাদরাসায় নেওয়ার কথা বলে ১০ বছরের শিশু তাসফিয়াকে নৌকায় করে করতোয়া নদীর মাঝখানে নিয়ে পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন তার সৎ বাবা শাফিউল ইসলাম (৪০)। ঘটনার পর পলাতক থাকা অবস্থায় বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাফিউল তাসফিয়াকে নিজ হাতে নদীতে ফেলে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনার দিন শাফিউল তাসফিয়াকে রানীগঞ্জ বাজার থেকে ভ্যানে করে প্রথমে কবিরপুর, এরপর গোবিন্দপুর হয়ে মুসিপাড়ার ঘাটে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে একটি নৌকায় করে ভর্ণাপাড়া টঙ্গী ঈদগাহ সংলগ্ন করতোয়া নদীর মাঝখানে গিয়ে প্রথমে শিশুটিকে পানিতে ফেলে দেয়। কিছুসময় পর আবার মায়া হলে নদী থেকে তাকে তুলে নৌকায় এনে বুকে জড়িয়ে ধরে। তবে তীরে ফেরার পর মোবাইল ফোনে স্ত্রী লিজার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শিশু তাসফিয়াকে ফের নদীর পানিতে ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরদিন সোমবার রাতে করতোয়া নদীতে তাসফিয়ার মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন এবং পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত তাসফিয়া আক্তার রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মমিনুল-লিজা দম্পতির মেজো সন্তান। ২০০৭ সালে মমিনুল ও লিজার বিয়ে হয়। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে তাসফিয়া ছিল দ্বিতীয়। ২০২৩ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হলে লিজা ঘোড়াঘাটের শাফিউলকে বিয়ে করেন। পরে দুজনেই জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় চলে যান।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, তাসফিয়ার হত্যায় জড়িত সৎ বাবা শাফিউল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে তাসফিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা অনেকটাই কেটেছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারিত হবে। এ ঘটনায় শিশুটির আপন বাবা মমিনুল বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।