লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে অনুমোদনহীন ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের পর জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দুই উপজেলায় পরিচালিত প্রায় ৭০টি অবৈধ ইটভাটার সকল কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট ১৫টি দফতরকে বিবাদী করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ দুই উপজেলায় থাকা মোট ৭১টি ইটভাটার মধ্যে বৈধতা রয়েছে মাত্র ৮টির। কমলনগরে ২০টি ভাটার মধ্যে ৬টি বৈধ ও ১৪টি অবৈধ। অন্যদিকে, রামগতি উপজেলার ৫১টি ভাটার মধ্যে মাত্র ২টি বৈধ এবং বাকি ৪৯টিই পুরোপুরি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
এর আগে, ২০২৫ সালে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের যৌথ অভিযানে ৪০টিরও বেশি অবৈধ ভাটার চিমনি ভেঙে ফেলা, কাচা ইট বিনষ্টকরণসহ বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হয়। তবে, হাইকোর্টের নতুন রিট আদেশের ফলে এখন থেকে পরিবেশ অধিদফতরের পাশাপাশি ভূমি, বিদ্যুৎ, সড়ক, বন, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে সরাসরি এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই কঠোর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে অবৈধ ভাটায় নতুন করে অর্থ বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। একই সঙ্গে ভাটা চালুর ভুয়া আশ্বাস বা প্রলোভনে পড়ে কারও সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করতেও অনুরোধ করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটির আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান ধনু জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা আন্তরিক হলে এসব অবৈধ ইটভাটা পুরোপুরি বন্ধ করা মোটেও কঠিন নয়।
সরকারি দফতরগুলো আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করে পরিবেশ বিধ্বংসী এই ইটভাটাগুলো চিরতরে বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।
সময়ের আলো/মহু