আল-আকসা রক্ষায় মুসলিমরা কতটা প্রস্তুত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনের গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর এবার আল-আকসা মসজিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম

2026-08-20T22:10:34+00:00
2026-08-20T22:10:34+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬,
৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
আল-আকসা রক্ষায় মুসলিমরা কতটা প্রস্তুত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১০ পিএম 
২০২৬ সালের ৩ এপ্রিল আল-আকসা মসজিদের পাশে একজন ফিলিস্তিনি নারী জুমার নামাজ আদায় করছেন। ছবি : এএফপি
ফিলিস্তিনের গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর এবার আল-আকসা মসজিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত এই মসজিদকে ঘিরে ইসরায়েলের নীতি ও কর্মকাণ্ডে স্থিতাবস্থা বদলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক মুসলমান।

দশকের পর দশক ধরে আল-আকসা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ ও ধর্মীয় ব্যবস্থাপনা ঘিরে উত্তেজনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে প্রশাসনিক পরিবর্তন, অমুসলিমদের ধর্মীয় প্রবেশাধিকারের পরিধি বাড়ানো এবং একপর্যায়ে মসজিদটির বর্তমান অবস্থা পরিবর্তনের আলোচনা ইসরায়েলি জনপরিসরেও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

ফলে মুসলিম বিশ্বে প্রশ্ন উঠছে— আল-আকসার বর্তমান অবস্থান ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষায় বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এবার কী পদক্ষেপ নেবে?

গাজার অভিজ্ঞতা বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে মুসলিম বিশ্বকে

প্রায় তিন বছর ধরে গাজায় চলমান সংঘাতে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত, আহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ নিয়ে প্রতিবাদ ও সংহতি দেখা গেলেও, সেই ক্ষোভ কতটা কার্যকর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পেরেছে— তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

মুসলিম বিশ্বের অনেক মানুষ মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রায়ই আবেগ, প্রতিবাদ ও প্রতীকী কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত রাজনৈতিক উদ্যোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে।

এর পেছনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ, পেশাগত ঝুঁকি কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার ভয় কাজ করেছে কি না— এমন প্রশ্নও উঠছে।

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা মানুষকে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার, ব্যবসা, পরিবার ও আর্থিক নিরাপত্তার দিকে বেশি মনোযোগী করে তুলেছে। এর ফলে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নৈতিক ইস্যুতে দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকা রাখার আগ্রহ অনেকের মধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন

ইসলামি ঐতিহ্যে দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ও মৃত্যুভীতিকে মুসলিম উম্মাহর দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিসও আলোচিত হয়, যেখানে ভবিষ্যতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতির একত্রিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং এর পেছনে ‘দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও মৃত্যুর প্রতি ঘৃণা’কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বর্ণনাকে অনেকে শুধু সামরিক দুর্বলতার পূর্বাভাস হিসেবে নয়, বরং নৈতিক ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখেন।

গাজার অভিজ্ঞতা সেই প্রশ্নটিকেই আরও সামনে নিয়ে এসেছে— একটি জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘস্থায়ী নিপীড়ন ও ধ্বংসযজ্ঞ দেখেও মুসলিম বিশ্ব কেন তা কার্যকর সম্মিলিত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে পারেনি?

গাজা কী মুসলিম বিশ্বের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে?

গাজার ঘটনাবলি শুধু ইসরায়েলি সামরিক শক্তির ব্যাপকতা প্রকাশ করেনি, মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক বিভাজন ও সীমাবদ্ধতাকেও সামনে এনেছে— এমন মত রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ব্যাপক জনমত তৈরি হলেও, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে।


এ কারণেই আল-আকসার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রশ্ন হলো, গাজায় এত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পরও যদি মুসলিম বিশ্ব কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে না পারে, তাহলে আল-আকসার মর্যাদা ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে পরিস্থিতি কতটা ভিন্ন হবে?

শুধু আত্মসমালোচনা নয়, প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ 

আল-আকসাকে ঘিরে উদ্বেগ শুধু ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের নিজেদের প্রস্তুতি, ঐক্য, সংগঠন ও দায়িত্ববোধও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত কয়েক বছরের ঘটনাপ্রবাহ মুসলমানদের সামনে আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর কী ঘটেছে, তার পাশাপাশি নিজেদের পক্ষ থেকে কী করা সম্ভব ছিল এবং কোথায় ব্যর্থতা ছিল— সেসব নিয়েও ভাবতে হবে।

তবে আত্মসমালোচনা যেন কেবল হতাশা বা আত্মধিক্কারে সীমাবদ্ধ না থাকে। এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর উদ্যোগ ও নতুন কৌশল তৈরি করা।

গাজার অভিজ্ঞতা তাই হতাশার পরিবর্তে মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে উঠতে পারে। অতীতে যা করা হয়নি, তা আর পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু ভবিষ্যতে কী করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে।

আল-আকসা মসজিদের ভবিষ্যৎ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিণতি শুধু সেখানে পরিবর্তন আনতে আগ্রহী পক্ষগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করবে না; মুসলিম বিশ্ব কতটা ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে, তার ওপরও নির্ভর করবে।

তবে এ ক্ষেত্রে যেকোনো পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও কূটনৈতিক উপায়ে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু আল-আকসা মসজিদ বিপদের মুখে আছে কি না, তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো— গাজার অভিজ্ঞতা থেকে মুসলিম বিশ্ব কি কোনো শিক্ষা নিয়েছে, এবং সেই শিক্ষা কি এবার বাস্তব ও শান্তিপূর্ণ পদক্ষেপে রূপ দিতে পারবে?

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   গাজা  আল-আকসা  মুসলমানরা  পবিত্র মসজিদ  রক্ষা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: