বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক। আজ তার নবম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের এই দিনে অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীকে শোকসাগরে ভাসিয়ে অনন্তের পথে পাড়ি জমান তিনি।
নায়করাজের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কুরআন খতম, কবর জিয়ারত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্জাকের ছোট ছেলে খালিদ হোসেন সম্রাট গতকাল সময়ের আলোকে বলেন, ‘আব্বার মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে কুরআন খতম, বাদ ফজর কবর জিয়ারত ও বাদ আসর পরিবারের সবাই মিলে দোয়া করা হবে। এর বেশি কিছু করা হচ্ছে না।’
এফডিসিতে নায়করাজ রাজ্জাককে নিয়ে কোনো স্মরণ অনুষ্ঠান আছে কিনা জানতে চাইলে সম্রাট বলেন, ‘সেইটা আমরা জানি না।’
নায়করাজের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চলচ্চিত্র পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী। তিনি বলেন, নায়করাজের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্পেশালি কোনো আয়োজন নেই। তবে আগামী মাসে অন্য শিল্পীদের মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে এক দোয়ার আয়োজন করা হবে। আসলে আমরা শিল্পীদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে চাই, এর আগে আয়োজনও করা হয়েছে কিন্তু উপস্থিতি থাকে খুবই নগণ্য। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও হাজির হন না।’
১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি ভারতের দক্ষিণ কলকাতার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুর রাজ্জাক। সেখানেই বেড়ে ওঠা। রাজ্জাকের অভিনয়ের শুরু কলকাতার খানপুর হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন সরস্বতী পূজায় মঞ্চ নাটকে। ১৯৬৪ সালে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার কারণে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। এরপর জড়িয়ে পড়েন চলচ্চিত্রের সঙ্গে।
নায়ক হিসেবে রাজ্জাকের প্রথম ছবি ‘বেহুলা’ মুক্তি পায় ১৯৬৭ সাল। এরপর আর পেছন দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ক্রমান্বয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন খ্যাতির শীর্ষে। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন তিনি। নায়ক হিসেবে তার শেষ ছবি ‘মালামতি’। নায়ক চরিত্রের বাইরে তিনি অভিনয় শুরু করেন ১৯৯৫ সাল থেকে। যে সিনেমাগুলোর কারণে নায়ক রাজ্জাক আজ অমর, সেগুলোর তালিকা দীর্ঘ। রাজ্জাকের সর্বশেষ অভিনীত চলচ্চিত্র ‘কার্তুজ’।
অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাও করতেন তিনি। তার প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘অনন্ত প্রেম’। এতে নায়িকা চরিত্রে ছিলেন ববিতা। সর্বশেষ পরিচালনা করেন ‘আয়না কাহিনী’। ৫০ বছরের ক্যারিয়ারে বাংলা ও উর্দু মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক। পাঁচবার সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা