লেবাননের সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান সরকারের হয়ে সংগঠনটি কাজ করছে— এমন অভিযোগ তুলে নিষেধাজ্ঞার আওতা পুনর্নির্ধারণ করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের অধীনে ইরানি সরকারের হয়ে কাজ করার অভিযোগে হিজবুল্লাহকে পুনরায় নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হিজবুল্লাহ ইরান সরকারের হয়ে, বিশেষ করে কুদস ফোর্সের নির্দেশনায় কাজ করছে— এ বিষয়টি স্পষ্ট করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১৯৯৭ সালে হিজবুল্লাহকে ‘ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন’ এবং ২০০১ সালে ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ, ব্যাংকিং লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের কাছে পণ্য, সেবা ও আর্থিক সহায়তার প্রবাহ বন্ধ করার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় হিজবুল্লাহর হয়ে অর্থ পাচার ও নগদ অর্থ পরিবহনের অভিযোগে ১০ জনকেও তালিকাভুক্ত করেছে ওয়াশিংটন। তাদের মধ্যে তুরস্কভিত্তিক এক ব্যবসায়ী রয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি বিভিন্ন দেশে অর্থ পরিবহনের জন্য একটি কুরিয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন এবং হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লেবাননে অর্থ পাঠাতে তুরস্কের মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করতেন।
মার্কিন বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই ব্যবসায়ী কুদস ফোর্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ স্থানান্তরের জন্য বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতেন। এ কর্মকাণ্ডে জড়িত কয়েকজন কুরিয়ারকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন, বৃহস্পতিবারের এই পদক্ষেপ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তার অংশ নয়।
এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা’ দেওয়া দেশগুলোকে অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে। একই দিন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের পরিকল্পিত ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ নিয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
১৯৮২ সালে লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে সংগঠনটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
বর্তমানে হিজবুল্লাহ লেবাননে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সেবাও পরিচালনা করে। সংগঠনটির নিজস্ব স্কুল ও হাসপাতাল রয়েছে এবং দেশটির শিয়া মুসলিমদের মধ্যে এর উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ