পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আবারও কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হয় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর। মঙ্গলবার আদালত তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নে একটি স্বাধীন মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককেও রাখার কথা বলা হয়।
হাসপাতালে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষার পর তাকে চিকিৎসাগতভাবে স্থিতিশীল বা ফিট ঘোষণা করা হয়েছে। তার চিকিৎসা নিয়ে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছে পরিবার ও দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা বারবার চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে।
ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হাসপাতালটির আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
ইমরানের স্বজন ও পিটিআই নেতারা গত এক বছর ধরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আদালতে আবেদন করে আসছেন। এর আগে ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ দুই দফা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। এক পর্যায়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট তার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নে মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান খান। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। ইমরান খান ও তার দল এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন; তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সময়ের আলো/কেএইচ