জাতীয় নিরাপত্তা মামলায় হংকংয়ের তিয়ানানমেন আন্দোলনকারীরা দোষী সাব্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীন সরকারের দমন-পীড়নের স্মরণে প্রতিবছর সমাবেশ আয়োজন করা হংকংয়ের দুই অধিকারকর্মীকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা উৎখাতে উসকানি দেওয়ার

2026-08-21T10:40:38+00:00
2026-08-21T10:40:38+00:00
 
  শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬,
৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
জাতীয় নিরাপত্তা মামলায় হংকংয়ের তিয়ানানমেন আন্দোলনকারীরা দোষী সাব্যস্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪০ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীন সরকারের দমন-পীড়নের স্মরণে প্রতিবছর সমাবেশ আয়োজন করা হংকংয়ের দুই অধিকারকর্মীকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা উৎখাতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। 

দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই অধিকারকর্মী হলেন ৬৯ বছর বয়সী লি চুক-ইয়ান ও ৪১ বছর বয়সী চাও হাং-তুং। চীনের প্রবর্তিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে সাজা ঘোষণা করা হবে পরে। মামলার তৃতীয় আসামি ৭৪ বছর বয়সী অ্যালবার্ট হো গত জানুয়ারিতে নিজের দোষ স্বীকার করেন।

শুক্রবার প্রকাশিত আদালতের রায়ের সারসংক্ষেপে বলা হয়, লি ও চাও অন্যদের বেআইনি উপায়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা উৎখাতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সংগঠিত, পরিকল্পনা, পরিচালনা বা তাতে অংশ নিতে উসকানি দিয়েছেন। তবে চাও মে মাসে আদালতে বলেন, এই মামলায় মূলত জাতীয় নিরাপত্তা আইনটিই বিচারের মুখোমুখি হয়েছে।

১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমনের স্মরণে চীনা ভূখণ্ডের মধ্যে হংকং ছিল অন্যতম বিরল স্থান, যেখানে প্রকাশ্যে মানুষ সমাবেশ করতে পারত।

তবে ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ এসব সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। এরপর আর সেগুলো আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই বছর হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হয়, যার আওতায় ভিন্নমত প্রকাশের বিস্তৃত পরিসরকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

মূল ভূখণ্ড চীনেও ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন দমন-পীড়নের সরাসরি তো বটেই, এমনকি পরোক্ষ উল্লেখও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

লি ও চাও এখন বিলুপ্ত হংকং অ্যালায়েন্সেরও নেতা ছিলেন। ১৯৮৯ সালের মে মাসে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পর বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ দমন করতে সেনা ও ট্যাংক নামায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। ওই অভিযানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে সঠিক হিসাব নেই; বিভিন্ন হিসাবে কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়।

পরবর্তী প্রায় তিন দশক ধরে হংকং অ্যালায়েন্স ওই দমন-পীড়নের দায় স্বীকার, ভিন্নমতাবলম্বীদের মুক্তি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল। ২০২১ সালে সংগঠনটির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর থেকেই তারা কারাগারে রয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই মামলার সমালোচনা করে বলেছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা উৎখাতের মতো অভিযোগে ‘অস্পষ্ট, অতিরিক্ত বিস্তৃত ও স্বেচ্ছাচারী’ সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করা হয়েছে।

সংগঠনটির উপ-আঞ্চলিক পরিচালক সারাহ ব্রুকস বলেন, চাও ও লি এমন কোনো স্বীকৃত অপরাধ করেননি যার জন্য তাদের বিচার করা যায়। তিনি তাদের ‘বিবেকের বন্দী’ উল্লেখ করে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

এর আগে ২০২১ সালে তিয়েনআনমেন স্মরণে আয়োজিত ওই বছরের সমাবেশে জনগণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানোর অভিযোগে চাওকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তবে ২০২২ সালে হংকংয়ের সর্বোচ্চ আদালত সেই সাজা বাতিল করেন। আদালত বলেছিলেন, সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের যথেষ্ট কারণ পুলিশ দেখাতে পারেনি।

হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে বিচ্ছিন্নতাবাদ, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা উৎখাত, সন্ত্রাসবাদ এবং বিদেশি বা বহিরাগত শক্তির সঙ্গে আঁতাতসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, এই আইন হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন দুর্বল করেছে এবং সেখানে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, আইনটি হংকংয়ের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন।



সময়ের আলো/কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  হংকং  চীন  তিয়ানানমেন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: