ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন কোনো প্রস্তাব এলে তা শুনতে প্রস্তুত রাশিয়া। তবে সেই প্রস্তাব অবশ্যই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবস্থান ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ এ কথা জানিয়েছেন। রুশ সংবাদমাধ্যম নিউজডটরুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াবকভ বলেন, রুশ প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত লক্ষ্য এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো যৌক্তিক প্রস্তাব ও ধারণা শুনতে রাশিয়া প্রস্তুত।
তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা আবারও সক্রিয় করতে আগ্রহী মস্কো। এর আগে রাশিয়া বলেছিল, ইউক্রেন ইস্যুতে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানকে কিছুটা বুঝতে পারছে। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যস্থতার উদ্যোগ থেকে ওয়াশিংটনের মনোযোগ কিছুটা সরে গেছে।
রিয়াবকভ বলেন, এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ইউক্রেনের সরকার এবং তাদের ইউরোপীয় সমর্থকদের সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষ্য, ইউরোপের কিছু দেশ এখনো রাশিয়াকে ‘কৌশলগতভাবে পরাজিত’ করার স্বপ্ন দেখছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর থেকে যুদ্ধ বন্ধের আগে পুতিন বেশ কিছু শর্ত দিয়ে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বাঞ্চলের পুরো দনবাস অঞ্চল রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর, ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার নিশ্চয়তা।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্চের শুরুতে আরও আলোচনার কথা থাকলেও ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করায় সেই আলোচনা বাতিল হয়।
এর আগে, গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পরও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে ওই পরিকল্পনায় রাশিয়ার দাবিগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে— এমন অভিযোগে তা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
চলতি বছরের শুরুতে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, তাদের সম্ভাব্য নতুন সফর নিয়ে এখনো কোনো নতুন তথ্য নেই।
এদিকে ইউক্রেনও মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তিনি কূটনৈতিক দলের মধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জেলেনস্কি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি প্রয়োজন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে। ইউক্রেন ফলাফল চায়।
গত মাসে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। সেখানে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
হামলা অব্যাহত
আলোচনার পাশাপাশি ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে হামলাও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেড়েছে। এতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
শুক্রবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে রুশ হামলায় দুই নারী নিহত হয়েছেন বলে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে। হামলায় পাঁচটি আবাসিক ভবন ও কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি বাড়িতে রুশ হামলায় একজন নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ। অন্যদিকে রাশিয়ার পার্ম অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর দিমিত্রি মাখোনিন।
এ ছাড়া ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চলে মলদোভার সঙ্গে একটি সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ফিনল্যান্ডের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিমাঞ্চলীয় উপসাগর এলাকায় একটি সন্দেহভাজন রুশ গোয়েন্দা বিমান ফিনল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ