মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ ও একঘরে করার হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। একই সময়ে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন প্রকল্পের নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপের ছয়টি দেশ। গাজায় যুদ্ধের সময় নিহত ৫০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তাদের গণদাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক হুমকিকে ‘ব্যর্থ নীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের নীতি ইরানিদের মধ্যে আরও ক্ষোভ তৈরি করবে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও ব্যর্থতা বয়ে আনবে।
এর আগে, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি ইরানের ওপর নজিরবিহীন মাত্রায় ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা’ আরোপের কথা বলেন। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
আরাঘচি এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আর্থিক সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতেই ইরানের বিরুদ্ধে এসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, মার্কিন ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানকে এমন কঠোর অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হবে, যা এর আগে কোনো দেশকে মোকাবেলা করতে হয়নি।
গাজায় ৫০ ফিলিস্তিনির গণদাফন
গাজা সিটিতে বৃহস্পতিবার ৫০ ফিলিস্তিনির গণদাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের শুরুর দিকের মাসগুলোতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তারা নিহত হয়েছিলেন। প্রায় তিন বছর পর সম্প্রতি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজন ও শোকাহত মানুষজন ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো মরদেহ বহন করে দাফনস্থলে নিয়ে যান। এ সময় গাজা সিটিতে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইউরোপের ছয় দেশের নিন্দা
ইসরায়েলের একটি নতুন বসতি স্থাপন প্রকল্পেরও নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপের ছয়টি দেশ। একই দিনে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) অভিযোগ করেছে, তাদের দুই কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক বিরোধ, গাজার মানবিক সংকট এবং ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ— সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ