মান্যবর থেকে মহামান্য

রফিক রাফি

জাতীয়

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ

2026-08-22T00:24:39+00:00
2026-08-22T00:24:39+00:00
 
  শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬,
৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
মান্যবর থেকে মহামান্য
রফিক রাফি
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৪ এএম 
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শুক্রবার বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : পিএমও
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। এই শপথের মধ্য দিয়ে তিনি হলেন মান্যবর থেকে মহামান্য। একই সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হলেন মির্জা ফখরুল।

বঙ্গভবনে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দরবার হলের প্রথম সারিতে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। 

প্রথম সারিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সমাজ কল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানকেও দেখা গেছে। দ্বিতীয় সারিতে ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন ও নৌবাহিনীর প্রধান খোন্দকার মিজবাহ উল আজীম। এই সারিতে ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ প্রমুখ। 

শপথ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকসহ পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এই শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। 

জাতীয় সংগীত শেষে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিল তিনটি চেয়ার। মাঝের চেয়ারে বসেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার ডান পাশে বসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাঁ পাশে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ গ্রহণ শেষে নতুন রাষ্ট্রপতি ও বিদায়ি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নিজেদের আসন পরিবর্তন করে বসেন।

শপথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব। আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব। আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিব।’
শপথের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম শপথনামায় স্বাক্ষর করেন এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার তা সত্যায়ন করেন। এদিকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ।

আপনার সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছি : মির্জা ফখরুলকে ভারতের রাষ্ট্রপতি 
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রপতি জানান, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর ভারতের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ অভিনন্দন জানানো হয়। বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয় ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে।

ওই বিবৃতিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমি নিশ্চিত যে, আপনার দীর্ঘ জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় একটি সফল সময়ের সূচনা করবে।

বিবৃতিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক অনন্য সম্পর্ক বিদ্যমান, যার মূলে রয়েছে ত্যাগের অভিন্ন ইতিহাস, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং বন্ধুত্বের উষ্ণ সম্পর্ক। সম্প্রতি জ্বালানি, প্রযুক্তি, সংযোগ, যুববিষয়ক, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমাগত আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসারিত হয়েছে।

শেষে তিনি বলেন, আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। মহামান্য, আপনার অব্যাহত সুস্বাস্থ্য ও সুখ, আপনার দায়িত্বের সফল সম্পাদনা এবং বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নেবেন।

ফখরুলকে জারদারির অভিনন্দন, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে তাকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিনন্দন বার্তায় জারদারি আস্থা প্রকাশ করেন যে রাষ্ট্রপতি ফখরুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে এবং জনগণের কল্যাণে আরও অগ্রগতি অর্জন করবে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতিকে স্বাগত জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়বে।

জারদারি বলেন, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি ফখরুলকে তার সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সহযোগিতা গভীর করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রেসিডেন্ট জারদারি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে তার দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য শুভকামনা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

নতুন রাষ্ট্রপতিকে চীনের অভিনন্দন
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে দেশটি। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, চীন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে। 

তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় এবং দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। লিন জিয়ান আরও বলেন, চীন উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নিতে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে এবং নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায় গঠনে নতুন অগ্রগতি অর্জনের জন্য কাজ করবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন এই নির্বাচনে ভোট দেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়ী প্রার্থী মির্জা ফখরুল।

দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হওয়ার আগে ৭৮ বছর বয়সি রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ছাড়া ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার আগে পাঁচ বছর ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। মির্জা ফখরুলই বিএনপির সবচেয়ে দীর্ঘকালীন মহাসচিব। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার নেতৃত্ব বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছিল।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার কালীবাড়ি এলাকায় জন্ম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ঢাকা কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। 

ষাট দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বামপন্থি ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (ইপিএসইউ) সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন তিনি। একই সময়ে সরকারি চাকরির অংশ হিসেবে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দিতে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। এর দুই বছর পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের জন্মস্থান উত্তরাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌর চেয়ারম্যান (বর্তমানে মেয়র পদ) নির্বাচিত হন তিনি। নব্বই দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। প্রথমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হন। দীর্ঘদিন দলের অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও পরে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বগুড়ার একটি আসন থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মির্জা ফখরুল তখন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত চৌকশ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এর আগে তিনি বঙ্গভবনের দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর গত ২৪ জুলাই হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   মান্যবর  মহামান্য  রাষ্ট্রপতি  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: