আয়ারল্যান্ডে প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো গথিক স্থাপত্যশৈলীর একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক দুর্গ বা রাজপ্রাসাদ কিনে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটার প্রধান নির্বাহী (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ ও তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান। ৪৪০ একর সুবিশাল জায়গার ওপর অবস্থিত ঐতিহাসিক এই রাজপ্রাসাদটির নাম ‘স্ট্র্যানক্যালি ক্যাসল’ (Strancally Castle)। বিশিষ্ট অর্থদাতা প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্সিয়ার মাইকেল অ্যালেন-বাকলির পরিবারের কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে এই প্রাসাদটি কিনে নিয়েছেন জাকারবার্গ দম্পতি।
চুক্তি অনুযায়ী বেচাকেনার সুনির্দিষ্ট মূল্য গোপন রাখা হলেও সম্পত্তি বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে প্রাসাদটির আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা)।
গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাকারবার্গের প্রাতিষ্ঠানিক মুখপাত্র ব্রায়ান বেকার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র ব্রায়ান বেকার বলেন, "মার্শাল ও তার পরিবার এই ঐতিহাসিক স্মারক বাড়িটির ঐতিহ্য ও যত্ন অব্যাহত রাখতে পেরে দারুণভাবে রোমাঞ্চিত। মেটার আন্তর্জাতিক প্রধান কার্যালয় আয়ারল্যান্ডে অবস্থিত হওয়ায়, সেখানে গিয়ে সময় কাটানোর জন্য তারা উন্মুখ হয়ে আছেন।"
অনুপম প্রাকৃতিক পরিবেশে বেষ্টিত ব্ল্যাকওয়াটার নদীর তীরে অবস্থিত ৩ তলা বিশিষ্ট এই রাজপ্রাসাদটি প্রায় ১৬ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। মূলত ১৮২৭ থেকে ১৮৩০ সালের দিকে তৎকালীন প্রভাবশালী ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ জন কেলির জন্য এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বিখ্যাত স্থপতি ভাইদ্বয় জেমস পেইন ও জর্জ রিচার্ড পেইন চমৎকার বেলেপাথর ও চুনাপাথরের কারুকাজে এই প্রাসাদটির নকশা ফুটিয়ে তোলেন। ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের কারণে বর্তমানে এটি আইরিশ সরকারঘোষিত এক সংরক্ষিত স্থাপত্য।
ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থ ‘দ্য হাউসেস অব আয়ারল্যান্ড’-এ রাজপ্রাসাদটির জাঁকজমক ও বিশালাকার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। বইটির লেখক ব্রায়ান ডি ব্রেফনি এবং রোজমেরি ফোলিয়টের বর্ণনায় বলা হয়, দুর্গটি এতটাই বিশালাকার ও বিলাসবহুল যে এর ভেতর রান্নাঘর থেকে মূল ডাইনিং রুমে পৌঁছাতেই একজন মানুষকে গড়ে প্রায় ৪.৫ মিনিট হেঁটে যেতে হয়।
প্রাসাদটি আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন থেকে প্রায় ১২৫ মাইল দূরে অবস্থিত, যার কাছাকাছিই রয়েছে মেটার আন্তর্জাতিক সদর দফতর ও একটি বিশাল ডেটা সেন্টার। গত ২৫ বছর ধরে অ্যালেন-বাকলি পরিবার কয়েক দফায় দুর্গটির ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও জাকারবার্গ ও তার পরিবার ইউরোপে অবস্থান বা আয়ারল্যান্ড সফরকালে ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে ঐতিহাসিক এই সম্পত্তি ব্যবহার করবেন।
সময়ের আলো/টিকে