কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় ঘটা একটি রহস্যজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রায় ১৯ হাজার ফুট উঁচুতে উড্ডয়নরত মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ‘ই-থ্রি-জি সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমান জরুরি সংকেত পাঠানোর পরপরই হঠাৎ রাডার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাটি শুক্রবার ভোরের হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির পর থেকে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৮৫২ কিলোমিটার। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলোর অন্যতম হওয়ায় হরমুজের মতো রণকৌশলগত এলাকায় বিমানটির আচমকা অদৃশ্য হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
ই-থ্রি-জি সেন্ট্রি কোনো সাধারণ সামরিক বিমান নয়। এটি মূলত আকাশে উড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি কেন্দ্রের মতো কাজ করে। শত্রুর গতিবিধি শনাক্ত করা থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর তাই হরমুজের মতো উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় এমন একটি বিমানের হঠাৎ রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই ঘটনায় অনেকেই সন্দেহ করছেন এটি হয়তো ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে। তবে মার্কিন কিংবা ইরানি কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত ড্রপ ডাউন বা হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এমন এক সময়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটল যখন হরমুজ প্রণালিতে কর্তৃত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ওই অঞ্চলের আকাশে আমেরিকান সামরিক উপস্থিতি কড়া নজরদারিতে রয়েছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ঘটনাটি কোনো মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি নতুন সামরিক সংঘাতের আভাস— নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজের আকাশে এর রহস্য থেকে যাচ্ছে অমীমাংসিতই।
সময়ের আলো/জেডি