স্টার্ক-শরিফুল লাঞ্চে, মুহূর্তেই মাঠ দখলে নেয় খুদে ক্রিকেটাররা!

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

অস্ট্রেলিয়ার ১২তম আন্তর্জাতিক টেস্ট ভেন্যু কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকায়ে অবস্থিত ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়’ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশ ২য় টেস্টে দেখা

2026-08-22T21:03:53+00:00
2026-08-23T00:04:22+00:00
 
  বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
খেলা
খুদে ক্রিকেটারদের ইন্টারভাল অ্যাক্টিভেশন
স্টার্ক-শরিফুল লাঞ্চে, মুহূর্তেই মাঠ দখলে নেয় খুদে ক্রিকেটাররা!
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৩ পিএম  আপডেট: ২৩.০৮.২০২৬ ১২:০৪ এএম
অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ২য় টেস্টের প্রথম দিনে খুদে ক্রিকেটারদের ইন্টারভাল অ্যাক্টিভেশন । ছবি : সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার ১২তম আন্তর্জাতিক টেস্ট ভেন্যু কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকায়ে অবস্থিত ‘গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়’ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশ ২য় টেস্টে দেখা গেল এক দারুণ সামাজিক দৃশ্য। পেশাদার ক্রিকেটাররা যখন ৪০ মিনিটের লাঞ্চ বা ২০ মিনিটের টি-ব্রেকে সাজঘরে ফেরেন, তখন স্টেডিয়ামের মূল সবুজ গালিচা এক মুহূর্তেই রূপ নেয় তৃণমূলের এক প্রাণবন্ত খেলার মাঠে। এটি অস্ট্রেলীয় ক্রীড়া সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের অনন্য ও সুনিয়ন্ত্রিত ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট : ‘মিলো ইনটু ক্রিকেট’ থেকে আধুনিক রূপায়ন

টেস্ট ম্যাচের মধ্যাহ্নবিরতিতে শিশুদের এই ক্রিকেট খেলার আয়োজনটি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (Cricket Australia) অফিসিয়াল তৃণমূল উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ। ১৯৯২ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি বিশ্বব্যাপী "MILO in2CRICKET" ব্র্যান্ডের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। বর্তমান সময়ে তা বিবর্তিত হয়ে 'উউলওয়ার্থস ক্রিকেট ব্লাস্ট' (Woolworths Cricket Blast) নামে স্থানীয় আঞ্চলিক ক্লাবগুলোর শিশুদের আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামে খেলার অভাবনীয় সুযোগ করে দিচ্ছে।

ম্যাচের সুরক্ষা এবং শিশুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

মাঠের সুরিক্ষা এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রহণ করা হয় অনন্য ও সুনিয়ন্ত্রিত প্রকৌশলগত পরিকল্পনা। আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচের মূল ২২ গজের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং খেলোয়াড়দের বোলিং রান-আপ নিরাপদ রাখতে মিচেল স্টার্ক বা শরিফুল ইসলামদের ব্যবহৃত 'স্কয়ার' শিশুদের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ রাখা হয়; সমস্ত ছোট ছোট পিচ আউটফিল্ডেই সীমাবদ্ধ থাকে।

অন্যদিকে, শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আসল বলের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে হালকা প্লাস্টিকের ব্যাট এবং নরম রাবার বা টেনিস বল সরবরাহ করা হয়। সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে প্রতিটি শিশু যাতে সমানভাবে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সেজন্য প্রথাগত নিয়ম বদলে দ্রুত রোটেটিং ওভারের একটি চটপটে ফরম্যাট অনুসরণ করা হয়, যা মূল পিচের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের উপহার দেয় এক নিরাপদ ও আনন্দময় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা।

খেলাধুলার উন্নয়নে এর কৌশলগত গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন বিরতিতে স্টেডিয়ামে দর্শকদের মেজাজ চাঙ্গা রাখা এবং মাঠের বাইরে ছড়িয়ে থাকা শিশুদের  বিশ্বমানের ক্রিকেট পরিবেশের অভিজ্ঞতা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি একটি মাইলফলক। এটি কেবল শিশুদের জন্য বিনোদন নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেট প্রতিভাদের লালন করার এক অন্যতম আন্তর্জাতিক উদাহরণ।

খেলার বিরতিতে খুদে শিশুদের আন্তর্জাতিক মানের সবুজ গালিচায় নামিয়ে দেওয়ার এই প্রথাটি কেবল সময় কাটানোর কোনো সাময়িক আয়োজন নয়, বরং এটি ক্রীড়ার সামাজিকীকরণের এক অসাধারণ নজির। মূলধারার পেশাদার খেলাধুলার সঙ্গে সাধারণত যেই দূরত্ব থাকে, এই ধরণের উদ্যোগ মুহূর্তেই তা মুছে দেয়।

যে মাঠে মিচেল স্টার্ক বা শরিফুল ইসলামের মতো তারকা ক্রিকেটাররা পারফর্ম করছেন, ঠিক সেখানেই যখন একটি শিশু বল হাতে দৌড়ে যায়, তখন সেই অভিজাত ক্রীড়াঙ্গন তার কাছে আর কোনো দূর আকাশের তারকা মনে হয় না, বরং খেলার প্রতি তার আত্মবিশ্বাস ও একাত্মতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

গ্যালারিতে বসে থাকা অভিভাবক ও দর্শকদের উপস্থিতিতে এটি খেলাধুলাকে এক আনন্দময় সামাজিক ও পারিবারিক উৎসবে পরিণত করে। কোনো কঠোর নিয়ম বা জয়ের চাপ ছাড়াই সফট বল আর প্লাস্টিকের ব্যাটে খেলা এই প্রথাটি শিশুদের শেখায় খেলাধুলার আসল সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নয়, বরং অংশগ্রহণ ও আনন্দের মধ্যে।

এই ধারণাটি কেবল ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; ফুটবলের প্রথমার্ধের বিরতিতে শিশুদের পেনাল্টি শুটআউট, বাস্কেটবলের হাফ-টাইমে স্থানীয় দলের খুদে খেলোয়াড়দের ড্রিবলিং কিংবা অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাকে শিশুদের প্রদর্শনী দৌড় চালু করে যেকোনো খেলার জনপ্রিয়তা ও সামাজিক ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব।

এমনকি শিক্ষা ও করপোরেট পরিবেশেও এই দর্শনের চমৎকার প্রয়োগ হতে পারে, যেখানে বড় কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিরতিতে তরুণ শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিলে তাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।

শেষ পর্যন্ত, এই সামাজিকীকরণ প্রমান করে, যেকোনো বড় স্পোর্টিং ইভেন্ট তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার কেন্দ্রবিন্দুতে সাধারণ মানুষের আবেগ ও আগামী প্রজন্মের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।

সময়ের আলো/টিকে
  বিষয়:   স্টার্ক-শরিফুল লাঞ্চে  সেই মাঠে পারফর্ম করছে খুদে খেলোয়াড়রা  দর্শকেরা দিচ্ছেন হাততালি! 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: