মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির তালিকা নিয়ে এনসিপির উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক

2026-08-22T23:32:44+00:00
2026-08-22T23:32:44+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
রাজনীতি
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির তালিকা নিয়ে এনসিপির উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩২ পিএম 
জাতীয় নাগরিক পার্টি। ছবি : সংগৃহীত
দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দলটি বলেছে, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

শনিবার (২২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এনসিপির মুখপাত্র এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ উদ্বেগের কথা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে কোন প্রক্রিয়া ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে এসব এজেন্সি নির্বাচন করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এর আগে বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেশটির কাছে পাঠিয়েছিল। সেই তালিকা থেকে মাত্র ২৫টি এজেন্সি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও ভিত্তি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা জরুরি বলে মনে করে এনসিপি।

দলটি বলছে, অতীতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। সরকার নির্ধারিত ৭৯ হাজার টাকার বিপরীতে একজন কর্মীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে বিদেশে যাওয়ার আশায় অনেক কর্মী জমি-জমা বিক্রি, সহায়-সম্বল শেষ কিংবা ঋণ করে বিপুল অর্থের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়েছেন।


আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া বাংলাদেশের কর্মপ্রত্যাশী মানুষের জন্য একটি বড় সুযোগ। আমরা কোনোভাবেই চাই না, অতীতের সিন্ডিকেট ভেঙে নতুন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি হোক।’

তিনি বলেন, একজন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে যাওয়ার জন্য জমি বিক্রি বা ঋণ নেওয়ার পর তার কষ্টার্জিত অর্থ যেন কোনো সিন্ডিকেটের পকেটে না যায়, সরকারকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।

এনসিপির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই এবং সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি একই চক্র যেন নতুন নামে বা নতুন কাঠামোয় ফিরে আসতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে ২০২৪ সালে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা কর্মীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।

দলটি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সংখ্যা, পদ্ধতি, অভিবাসন ব্যয় ও অন্যান্য শর্ত স্বচ্ছভাবে চূড়ান্ত করে তা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

এনসিপি মনে করে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কোনো নির্দিষ্ট কয়েকটি এজেন্সির একচেটিয়া ব্যবসার ক্ষেত্র হতে পারে না। যোগ্য ও বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য ন্যায্য সুযোগ, কর্মীদের জন্য সহনীয় অভিবাসন ব্যয় এবং পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   মালয়েশিয়া  কর্মী  এজেন্সি  তালিকা  এনসিপি  উদ্বেগ 


Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: