বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর ১০৯ কিলোমিটার সড়ক

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা, টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে ৫৮টি গ্রামীণ সড়ক ও ৬০টি সেতু-কালভার্ট ভেঙে সম্পূর্ণ

2026-08-23T18:58:18+00:00
2026-08-23T19:01:30+00:00
 
  রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর ১০৯ কিলোমিটার সড়ক
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম  আপডেট: ২৩.০৮.২০২৬ ৭:০১ পিএম
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক। ছবি : সময়ের আলো
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা, টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে ৫৮টি গ্রামীণ সড়ক ও ৬০টি সেতু-কালভার্ট ভেঙে সম্পূর্ণ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোট ১০৯ কিলোমিটার সড়ক। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সরল ইউনিয়নের মিনজিরিতলা, কাথরিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাগমারা ও মানিকপাঠান, শেখেরখীল ইউনিয়নের কোনাখালী, চাম্বল ইউনিয়নের ডেপুটিঘোনা, শীলকুপ ইউনিয়নের মনকিচর, পৌরসভার জলদী, পুঁইছড়ি ইউনিয়নের বশিরাবাড়ি, জঙ্গল নাপোড়া, বৈলছড়ি ইউনিয়নের অভ্যারখীল, কালীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম গুণাগরী, সাধনপুর ও পুকুরিয়া এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো বন্যার পানিতে কার্পেটিং ও ইট উঠে গিয়ে ধুয়ে-মুছে গেছে। মাটির সড়কগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, বাঁশখালীতে এমন কোনো সড়ক নেই, যেটি বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের চাপে বাঁশখালী প্রধান সড়কটি রাতারাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান সড়ক উপচে পানি পার হয়েছে। পানি বাড়ার কারণে সড়কে যানচলাচলও বন্ধ থাকে। পানি নেমে যাওয়ার পর পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও সড়কের বিভিন্ন প্রান্তে ভাঙন দেখা দেয়। পরে সরকারি লোকজন এসে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বোঝাতে বাঁশের উপর লাল কাপড় বেঁধে নিশানা দিয়েছে। কয়েকটি জায়গায় স্থানীয়রাও এমন নিশানা দিয়েছে। 


চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী প্রধান সড়কের ক্ষত চিহ্নিত করে সড়ক ব্যবহারে সতর্ক সংকেত হিসেবে ৩২ স্পটে ‘লাল পতাকা’ উড়িয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। আপাতত প্রধান সড়কে বন্যার পানি না থাকলেও এই নিশানাই সড়কটি উপর দিয়ে বন্যার বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট করেছে। এছাড়াও, বিভিন্ন এলাকায় সড়কের বিটুমিন উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘বন্যার পানিতে বাঁশখালী-সাতকানিয়া সড়কটি পানিতে ডুবে ছিল। পাশাপাশি বাঁশখালীর প্রধান সড়কটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সড়কে যেখানেই ভাঙন হয়েছে, সেখানে লাল পতাকা দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এই উপজেলায় সওজের ৬ কিলোমিটার সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সী বলেন, ‘এখানকার অধিকাংশ রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নষ্ট হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বশির উল্লাহ মিয়াজীর বাজার থেকে গাজীরপাড়া সংযোগ সড়ক, মাইজপাড়া আলী আকবর চৌধুরী সড়কের বাকি অংশ এবং মাইজপাড়া আলী আকবর সড়ক থেকে হেদায়েত আলীপাড়া সংযোগ সড়ক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো দ্রুত সংস্কার করা না গেলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

খানখানাবাদের প্যানেল চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘খানখানাবাদ ইউনিয়ন নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। বন্যায় অধিকাংশ রাস্তা তলিয়ে গিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে।’

ছনুয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ছানুবী বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের মধুখালী, ছোট ছনুয়া ও খুদুকখালীর অধিকাংশ রাস্তা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ছনুয়া খুদুকখালী বাজার থেকে প্রেমবাজার পর্যন্ত সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে।’

বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাদ বিন মনির বলেন, ‘বন্যায় বাঁশখালীর সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে অভ্যন্তরীণ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা ৫৮টি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ ও কালভার্টের সংখ্যা ৬০টি। রাস্তার সারফেসসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোট ১০৯ কিলোমিটার সড়ক।’

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও কালভার্ট সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী ও সওজকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

সময়ের আলো/মহু



  বিষয়:   বন্যা  ক্ষতিগ্রস্ত  বাঁশখালী  সড়ক  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: