তীব্র লোডশেডিং আর জ্বালানির চড়া দামে বিপর্যস্ত চা শিল্প

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

সারাদেশ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় ঘনঘন লোডশেডিং এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চা শিল্প। উৎপাদন কমার পাশাপাশি একদিকে

2026-08-23T18:34:19+00:00
2026-08-23T18:34:19+00:00
 
  রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
তীব্র লোডশেডিং আর জ্বালানির চড়া দামে বিপর্যস্ত চা শিল্প
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৪ পিএম 
তীব্র লোডশেডিং আর জ্বালানির চড়া দামে বিপর্যস্ত চা শিল্প
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় ঘনঘন লোডশেডিং এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চা শিল্প। উৎপাদন কমার পাশাপাশি একদিকে নষ্ট হচ্ছে চায়ের গুণগত মান, অন্যদিকে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে বিভিন্ন বাগানে। চা বাগানের জন্য কিছু এলাকায় আলাদা ফিডার থাকলেও এর সুফল মিলছে না। প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে কয়েক লাখ টাকার চাপাতা। এতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও নিলামে মিলছে না ন্যায্য দাম।

চা পাতা সংগ্রহের ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টার মধ্যে উৎপাদন শুরু করার নিয়ম থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে তা ৭০ থেকে ৮০ ঘণ্টা সময় লাগছে। জেনারেটর চালিয়েও পুরো ফ্যাক্টরি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তেলের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। অথচ নিলামে দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন বাগান মালিকরা।

ফ্যাক্টরি ম্যানেজার বাবু জামাল উদ্দিন, মিস্ত্রি রুস্তম হোসেন, ইলেকট্রিশিয়ান ধীরেন সিংহ, পাতা সর্দার মিলন ও রোদন ভৌমিক জানান, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ডায়ার মেশিন বন্ধ থাকায় প্রচুর পাতা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে পাতা চয়নকারীরাও নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। দামি মেশিন নষ্ট হচ্ছে, চায়ের গুণগতমান ধরে রাখা যাচ্ছে না।


পাত্রখলা চা বাগানের ফ্যাক্টরি ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ ফারুকী সিয়াম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক মেশিনারিজও নষ্ট হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের ৯৩টি চা বাগানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক জড়িত। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকরা ওভারটাইম ও অতিরিক্ত রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নারী শ্রমিকরা পাতা তুলতে যেতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

চা বাগান পঞ্চায়ত সভাপতি স্বপন কুর্মি ও শ্রমিক সর্দাররা জানান, উৎপাদন কমে গেলে শ্রমিকদের মজুরি, বোনাস ও রেশন আটকে যাবে। এতে শ্রমিকরা চরম সমস্যায় পড়বেন।

চা বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী রফতানিমুখী ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। বাগান কর্তৃপক্ষ বারবার বিদ্যুৎ বিভাগে চিঠি দিলেও কোনো সুফল মিলছে না।

টি ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএমএন মুনির বলেন, সরকার নিলামে চায়ের সর্বনিম্ন দাম ২৪৫ টাকা কেজি নির্ধারণ করলেও লোডশেডিংয়ের কারণে সে মানের চা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চায়ের প্রকৃত মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না এবং অনেক চা অবিক্রীত থাকছে। এতে অনেক বাগান শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরিও দিতে পারবে না।


বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ডানকান ব্রাদার্সের কয়েকটি বাগানের জন্য আলাদা ফিডার থাকলেও অন্য বাগানের জন্য তা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পেলে আলাদা ফিডার নির্মাণ করা হবে।

চা শিল্পসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত এই বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান না হলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন।

সময়ের আলো/এনএন/আতা


  বিষয়:   লোডশেডিং  জ্বালানি  জ্বালানির চড়া দাম  বিপর্যস্ত চা শিল্প  চা শিল্প  কমলগঞ্জ  মৌলভীবাজার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: