বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে টেকসই উৎপাদনের অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিতে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ এসেছে। এ জন্য গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে ডেনমার্কের আলবর্গ ইউনিভার্সিটি বিজনেস স্কুলের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকায় বিজিএমইএর সহসভাপতি বিদ্যা অমৃত খানের সঙ্গে প্রতিনিধিদলটির বৈঠক হয়।
আলবর্গ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বখতিয়ার রানার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বৈঠকে অংশ নেয়। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তরের অগ্রগতি এবং এ বিষয়ে চলমান গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় বলা হয়, পোশাকশিল্পে টেকসই উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে সার্কুলার অর্থনীতি এখন এ খাতের জন্য নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার ক্ষেত্র। উৎপাদন ব্যবস্থায় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, বর্জ্য কমানো এবং পুনর্ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এ রূপান্তরকে আরও কার্যকর করা সম্ভব।
বিজিএমইএর সহসভাপতি বিদ্যা অমৃত খান বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প টেকসই উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর এ শিল্পের সামনে পরবর্তী বড় লক্ষ্য।
বৈঠকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পোশাকশিল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্ঞান ও গবেষণার সমন্বয় ঘটাতে পারলে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তরের পথ আরও সহজ হবে।
সার্কুলার অর্থনীতিতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের রূপান্তর নিয়ে ‘ক্রিয়েট’ (CREATE) প্রকল্পের আওতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ডেনমার্ক সরকারের ড্যানিডার অর্থায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে আলবর্গ ইউনিভার্সিটি। প্রকল্পের অংশীদার হিসেবে রয়েছে বিজিএমইএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রকল্পটির আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত বৈশ্বিক পোশাকের মূল্যশৃঙ্খলে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ রূপান্তরকে কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় নীতি সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যেও কাজ চলছে।
বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি এবং গবেষণা থেকে উঠে আসা নতুন তথ্য-উপাত্ত নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে শিল্পের বাস্তব প্রয়োজনে কাজে লাগানো এবং নীতিনির্ধারণে তা ব্যবহার করা গেলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে সার্কুলার অর্থনীতির চর্চা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে টেকসই উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে শিল্পের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা ধরে রাখতে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ক্ষেত্রে শিল্পমালিক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ‘ক্রিয়েট’ প্রকল্পের মাধ্যমে এ ধরনের সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়।
সময়ের আলো/এমকে