নাইজেরিয়ার নাইজার স্টেটে জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন মুসল্লিকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী। শুক্রবারের এ হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ বলছে, এখন পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (২২ আগস্ট) স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, নাইজার স্টেটের বর্গু স্থানীয় সরকার এলাকায় কয়েকটি গ্রামে হামলা চালানোর পর বন্দুকধারীরা কপেনিয়া গ্রামের একটি মসজিদে ঢুকে পড়ে। তখন সেখানে জুমার নামাজ চলছিল।
বর্গু এলাকার কাউন্সিল চেয়ারম্যান আবদুল্লাহি মোহাম্মদ নাসির অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মানুষজনকে অপহরণ করা হয়। নামাজের সময়ই ওই সশস্ত্র ব্যক্তিরা মসজিদ ঘিরে ফেলে এবং মুসল্লিদের নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, অপহৃত মানুষের সংখ্যা কয়েক ডজন, যা ৬০ জন পর্যন্ত হতে পারে।
হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি এএফপিকে জানান, শুক্রবারের নামাজ শেষ হওয়ার পর শত শত সশস্ত্র ব্যক্তি বন্দুক, ছুরি ও দা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা কয়েকজনকে হত্যা করে এবং দাবি করে, তারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণ করছে না।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। ফলে নিহতের সংখ্যা নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কারা হামলা চালিয়েছে?
হামলার পরদিন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। পুলিশও এখনো হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
তবে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে দাবি করেছেন, হামলাকারীরা লাকুরাওয়া নামের একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য। গবেষকদের মতে, এই গোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট সাহেল প্রভিন্স’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্য এক বাসিন্দা হামলাকারীদের আনসারু সদস্য বলে দাবি করেছেন। আনসারু বোকো হারাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে আল-কায়েদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, মাহমুদা নামে আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বী জিহাদি গোষ্ঠী হামলাকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষের সুযোগে কয়েকজন অপহৃত ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
নাইজেরিয়ায় সহিংসতা অব্যাহত
নাইজেরিয়ায় বোকো হারামের তৎপরতার চরম সময়ের তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিহাদি হামলা কমেছে। তবে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশ এখনো একাধিক সংঘাত মোকাবেলা করছে।
উত্তরাঞ্চলে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধী সশস্ত্র গোষ্ঠী বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ডাকাতদলের কারণেও অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
নাইজার স্টেটের সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় কারা জড়িত এবং কতজন মানুষ অপহৃত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনী তদন্ত চালাচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ