খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় এক রাতের মাত্র তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ইয়াসমিন আক্তারের দুটি মুরগির খামার। এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পাকিস্তানি মুরগি মারা যাওয়ায় প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
শুক্রবার দিনগত মধ্যরাত (২২ আগস্ট) মাত্র তিন ঘণ্টায় দীঘিনালায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে ভোররাতে উপজেলার জামতলির সুধির মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা ইয়াসমিন আক্তারের দুটি মুরগির খামার পানিতে তলিয়ে যায়। পানির স্রোতে ভেসে ও ডুবে মারা যায় খামারের মুরগি। একই সঙ্গে নষ্ট হয়েছে মুরগির খাদ্য ও বিভিন্ন মালামাল।
জানা যায়, টানা বৃষ্টির পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ইয়াসমিনের বসতঘর ও দুটি মুরগির খামারও পানিতে তলিয়ে যায়। খামারের ওপর নির্ভরশীল পরিবারটি এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি দুটি মুরগির খামার গড়ে তুলেছিলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইয়াসমিন আক্তার বলেন, রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে উঠে দেখি বন্যার পানিতে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ২০ দিন আগে মুরগিগুলো খামারে তুলেছিলাম। দুটি খামারের ১ হাজার ৫০০ মুরগি মারা গেছে। এতে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ৩-৪টি এনজিওতে আমার ঋণ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা এই খামারই ছিল তাঁর পরিবারের একমাত্র জীবিকার পথ। ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা খামার মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তিনি ও তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছেন।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, খামারি ইয়াসমিন আক্তারের ক্ষতির বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তিনি যাতে ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে উঠতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।
সময়ের আলো/আতা