দুদকের একটি নোটিস অনেকের কাছে শুধু একটি চিঠি নয়, হয়ে উঠতে পারে আতঙ্কের কারণ। এমনকি সেই আতঙ্কে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, হার্টফেল করে মৃত্যুও হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদ্য দায়িত্ব নেওয়া কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া। নিরপরাধদের হয়রানি ঠেকাতে সতর্ক হয়ে কাজ করতে চান দুদক কমিশনার সাজ্জাদ।
সাজ্জাদ হোসেনের মতে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে ভুলভাবে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হলে শুধু ওই ব্যক্তি নন, তার পুরো পরিবারও চাপের মধ্যে পড়ে। তাই দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষা এবং অযথা হয়রানি বন্ধ করাকেও দুদকের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখতে চান তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের কাজ দ্রুত শেষ করতে চায় নতুন কমিশন। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম তিন দিনেই বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৩০০ ফাইল ছেড়েছেন বলে জানান সাজ্জাদ হোসেন।
তবে কাজের গতি বাড়াতে গিয়ে যাচাই-বাছাইয়ে তাড়াহুড়ো করতে চান না তিনি। তার ভাষায়, মানুষের দুর্ভোগ কমিয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করাই মূল কাজ; দুর্ভোগ বাড়িয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা ভালো কাজ নয়।
দুদকে কোনো অভিযোগ আসার পর প্রাথমিক যাচাই-বাছাইকেই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন তিনি। অনুসন্ধান শুরুর আগে অভিযোগের ভিত্তি ও তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজন হলে এ জন্য সময় নেওয়া হবে।
দুদককে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পুরোনো অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগ কার বিরুদ্ধে এসেছে, তার চেয়ে অভিযোগের বিষয়বস্তু ও তথ্য যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ। যার নামেই অভিযোগ আসুক, সেটি যাচাই-বাছাই করা হবে।
অভিযোগের মুখে থাকা কেউ নিজের বক্তব্য জানাতে চাইলে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগও থাকবে। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগের বাইরে দুদকের নিজস্ব তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করতে চান তিনি।
সাজ্জাদ হোসেনের বক্তব্যের মূল বার্তা—দুর্নীতি দমন করতে গিয়ে যেন নিরপরাধ মানুষ হয়রানি বা আতঙ্কের শিকার না হন। মানবাধিকার রক্ষা করেই কার্যকরভাবে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সময়ের আলো/এসএকে