মাদারীপুরের শিবচরে মাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং শিশু নিখোঁজের ছয়দিন পরে এক বছর বয়সি আবিরের মরদেহ আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ফারুক শিশুটির মা শম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং আবিরকেও হত্যার পর নদে ফেলে দেওয়ার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের চর-কামারকান্দি এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত শিশু আবিরের বাবা শাহাবুদ্দিন হাওলাদার এবং মা নিহত শম্পা খাতুন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট মাদবরচর ইউনিয়নের বাখেরকান্দি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে শম্পা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহত শম্পা খাতুনের বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তে নেমে ২১ আগস্ট সকালে শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮-এর যৌথ অভিযানে অভিযুক্ত ফারুককে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক ১৮ আগস্ট শম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। একই জিজ্ঞাসাবাদে সে শিশু আবিরকেও হত্যার পর আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদে ফেলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
এরপর থেকেই নিখোঁজ শিশু আবিরকে উদ্ধারে স্থানীয়দের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আড়িয়াল খাঁ নদে তল্লাশি চালিয়ে আসছিলেন। অবশেষে ঘটনার ছয় দিন পর সোমবার সকালে নিলখী ইউনিয়নের চর-কামারকান্দি এলাকায় নদে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মা ও শিশুকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ফারুকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্রুত বিচার শেষে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সময়ের আলো/এনএন/আতা