দুয়ারে কড়া নাড়ছে এশিয়ান গেমস। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এবারের আসর। জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত গেমসের পর্দা নামবে ৪ অক্টোবর। প্রতি আসরের ন্যায় এবারও অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। যদিও গেমস থেকে সাফল্যের হার যৎসামান্য, কালেভদ্রে আসে। তবে সম্ভাবনার অনেক ইভেন্টগুলোর একটি বক্সিং। এশিয়ান গেমসে যদিও বক্সিংয়ে বিশ্বসেরা দল এবং বিশ্বের সেরা বক্সাররা অংশ নিয়ে থাকেন, তারপরও এবারের আসরে পদকে চোখ রাখছেন গেমসে অংশ নেওয়া লাল-সবুজের দুই প্রতিযোগী মো. সেলিম হোসেন এবং উৎসব আহমেদ।
সেলিম বাংলাদেশের বক্সিংয়ে পরিচিত মুখ। জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। তবে আন্তর্জাতিক আসরে এখনও সাফল্যের পদচিহ্ন আঁকতে পারেননি। এশিয়ান গেমসের গত আসরে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেন। ২০২২ হাংজু এশিয়ান গেমসে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া করেন। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে গেমস থেকে বিদায় নেন। বক্সিংয়ের সেমিফাইনালে উঠলেই অন্তত ব্রোঞ্জ নিশ্চিত, সেই সুযোগ গতবার হাতছাড়া হয়েছে সেলিমের। এবার আর আক্ষেপে পুড়তে চান না। ইতিহাস গড়তে চান, দেশকে পদক এনে দিতে চান।
এশিয়ান গেমস সামনে রেখে দিনরাত পরিশ্রম করছেন সেলিম। রিংয়ে তো অনুশীলন করছেনই, জিমেও ঘাম ঝরাচ্ছেন। সকাল-বিকাল দুবেলার টানা অনুশীলন চলছে তার। কমনওয়েলথ গেমস সামনে রেখে শুরু হওয়া অনুশীলন ক্যাম্প এখনও চলমান। প্রথমে বিদেশি কোচ, এখন অবশ্য দেশি কোচদের অধীনে অনুশীলন করছেন সেলিম-উৎসব। এশিয়ান গেমস সামনে রেখে সময়ের আলোকে সেলিম বলেন, 'এশিয়ান গেমসের গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলাম। সেমিতে উঠতে পারলে অন্তত ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হতো। আশা করছি এবার ভালো করব। যদিও এশিয়ান গেমস থেকে বক্সিংয়ে পদক জেতা সহজ নয়। বিশ্বের সেরা দলগুলোই এতে অংশ নেয়। তারপরও চেষ্টা থাকবে দেশকে একটি হলেও পদক এনে দেওয়ার।'
অনুশীলন থেকে থাকা-খাওয়া সুযোগ সুবিধা কেমন পাচ্ছে সেলিম-উৎসবরা। এমন প্রশ্নে সেলিমের উত্তর, 'আমাদের সাধারণ সম্পাদক (এম এ কুদ্দুস খান) আমাদের জন্য সব ধরনের চেষ্টা করছেন। গেমসে যাতে আমরা ভালো করি সেজন্য কোচিং স্টাফ থেকে আবাসন সুবিধা, থাকা-খাওয়া সবকিছুই উন্নতমানের রেখেছেন। ফেডারেশন আমাদের জন্য যথেষ্ট করছে, এবার আমাদের প্রতিদান দেওয়ার পালা।' সেলিমের সুরে সুর মেলান তরুণ বক্সার উৎসব আহমেদও। এ বিষয়ে উৎসব বলেন, 'কুদ্দুস স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ। উনি আমাদের যথেষ্ট টেককেয়ার করছেন। কোচ মাহফুজ স্যার, রহিম স্যার, আল-আমিন স্যারসহ সবাই আমাদের জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করছেন। তাদের প্রতিদান আমরা রিংয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।'
গত বছর জাতীয় দলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক হয় উৎসবের। ভুটানে অনুষ্ঠিত চার জাতি বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেন রাজশাহীর এ বক্সার। এশিয়ান গেমসে প্রথ মবার খেলতে যাচ্ছেন। সময়ের আলোকে নিজের অনুভূতি জানিয়ে উৎসব বলেন, 'প্রথমবার এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে খেলতে যাচ্ছি। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে অনুশীলন করছি। আশা করছি আসরে ভালো কিছুই করব। সবার সহযোগিতা এবং দোয়া প্রত্যাশা।' সেলিম এবং উৎসবের অনুশীলন পার্টনার হিসেবে ক্যাম্পে আছেন সময়ের আরও দুই সেরা বক্সার মো. বেল্লাল এবং আবু তালহা হৃদয়। সেলিম এবং উৎসব সম্পর্কে তালহা এবং বেল্লাল জানান, সেলিম ভাই এবং উৎসব দুজনই ভালোমানের বক্সার। এশিয়ান গেমস যদিও অনেক বড় আসর। তারপরও আমরা বিশ্বাস রাখছি তারা ভালো করবে। দেশের জন্য পদক নিয়ে আসবে। কারণ অনুশীলনে তাদের পার্টনার হিসেবে যতটুকু দেখছি, বেশ ভালো করছেন দুজনই।
সময়ের আলো/কেএইচ