ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ও একতরফা কমিটি গঠনের প্রতিবাদে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই ‘পকেট কমিটি’ বাতিলের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। আল্টিমেটামের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীর খাইরুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনালে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ আগস্ট ঘোষিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন কমিটিতে বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত, কারাবরণকারী এবং হামলা-মামলার শিকার প্রকৃত নেতাদের সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এসব পদ বিক্রি করেছেন।
উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মো. জিয়াউল হক সেন্টু সরদারকে জাসদ থেকে আগত এবং ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এছাড়া সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে নিজ দলের নেতা হত্যা মামলায় ২২ বছর কারাদণ্ড ভোগ করা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।
পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক মাহবুব রহমান পলাশকে ‘আন্তর্জাতিক মাদক চোরাকারবারী’ উল্লেখ করে জানানো হয়, ২০১৮ সালে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ডিএমপি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। এছাড়া সদস্য সচিব ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে সাউথইস্ট ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ ও চেক জালিয়াতি মামলায় এক বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
নেতারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই বিতর্কিত কমিটি স্থগিত করে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। অন্যথায় ঈশ্বরদীতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বঞ্চিত নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী শহরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলহাজ্ব মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এদিকে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করেই ঈশ্বরদীর দুটি কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। যারা মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন, তারা দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী নন। তারা অতীতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
নতুন কমিটির বিতর্কিত নেতাদের বিষয়ে তিনি জানান, ইমরুল কায়েস সুমনের সাজার বিষয়টি তার জানা ছিল না এবং সুমন এটি দ্রুত আইনিভাবে নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সেন্টু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাছ আলী, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান স্বপন, নান্নু রহমান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সয়ের আলো/জোই