গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় পাওনা রিজাইনের টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে এক নারী পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণের অভিযোগে শফিউল আলম (৩০) নামে এক শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শফিউল বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর কমিটির সভাপতি বলে জানা গেছে।
গ্রেফতার শফিউল আলম লালমনিরহাটের আদিতমারী থানার চন্ডিমারী এলাকার মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি বর্তমানে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী প্রায় পাঁচ বছর কোনাবাড়ী এলাকার কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডে অপারেটর হিসেবে কাজ করেছেন। নিয়মিত বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তিনি শ্রম আইন অনুযায়ী চাকরি থেকে রিজাইন করেন। তবে প্রতিষ্ঠান থেকে তার পাওনা রিজাইনের টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তিনি শ্রমিক নেতা শফিউল আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে গত ২৩ আগস্ট রাত ৯টার দিকে শফিউল ওই নারীকে মোবাইল ফোনে জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তার পাওনা রিজাইনের টাকা উদ্ধার করে নিজের কাছে রেখেছেন। টাকা নিতে তাকে দ্রুত নিজের কার্যালয়ে যেতে বলেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওইদিন রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যালয়ে যান। সেখানে পাওনা টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে শফিউল তাকে জাপটে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় ডাক-চিৎকার করলে শফিউল তার গলা চেপে ধরেন এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে তাকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পরদিন ২৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভুক্তভোগী নারী বাসন থানায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শফিউল আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন আর রশীদ জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে আসামি শফিউল আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা