‘দাদা, পানি দাও, আমি ঘটনা ঘটাই ফেলছি, আমি তো মার্ডার করছি’

রংপুর ব্যুরো

সারাদেশ

‘দাদা, পানি দাও, আমি ঘটনা ঘটাই ফেলছি, আমি তো মার্ডার করছি’— রংপুরের দখিগঞ্জ শ্মশানের কপাটে হাত দিয়ে এভাবেই নিজের অপরাধের

2026-08-25T22:08:46+00:00
2026-08-25T22:08:46+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬,
১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
রংপুরে ৪ খুনের প্রধান অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস
‘দাদা, পানি দাও, আমি ঘটনা ঘটাই ফেলছি, আমি তো মার্ডার করছি’
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম 
রংপুরে হত্যার শিকার গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত
‘দাদা, পানি দাও, আমি ঘটনা ঘটাই ফেলছি, আমি তো মার্ডার করছি’— রংপুরের দখিগঞ্জ শ্মশানের কপাটে হাত দিয়ে এভাবেই নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে আশ্রয় চেয়েছিলেন চার খুনের প্রধান অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস। তবে শ্মশানের ডোম বিদ্যুৎ মোহন্ত দরজা না খুলে পুলিশে খবর দিলে ঘেরাও করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বিদ্যুৎ মোহন্ত বলেন, ওইদিন সে (তুঁতফার্ম) থেকে এসে দরজায় ঠকঠক করছিল। জল চাইতেছিল। গেট খুলিনি। প্রথমে জানালা খুলছি। পরে দেখি প্রশাসন আসছে। পরে এসে তাকে নিয়ে গেছে। আমি দরজা পর্যন্ত গেছি। যখন প্রশাসন ওকে নিয়ে যায়, তখন আমি বলছি, তোর তো ফাঁসি হওয়া উচিত। তুই যে কাজটা করছিস, তা মানুষের মানসিকতায় পড়ে না।

রংপুর মহানগরীর গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা এবং তাদের দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস ও তার সহযোগী সিদ্ধার্থকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযানে নেমে প্রথমে সিদ্ধার্থকে আটক করা হয়। সিদ্ধার্থের দেওয়া তথ্যে মুগ্ধ দাসকে ধরতে তুঁতফার্ম ও দখিগঞ্জ শ্মশান এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। ধাওয়া খেয়ে শ্মশানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে ডোম বিদ্যুৎ মোহন্ত জানালা খুলে তাকে দেখতে পান এবং পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে মুগ্ধকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং পরবর্তীতে আদালতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ উভয়ই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহত প্রীতিলতা ও তার মেয়েকে ধর্ষণের যে দাবি উঠেছিল, ময়নাতদন্ত শেষে তা খারিজ করে দিয়েছে ফরেনসিক বিভাগ।


রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস জানান, ল্যাবরেটরিতে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। নিহতদের গলায় নরম ও নমনীয় বস্তুর চাপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহের বুক ও মাথায় ভোঁতা আঘাতের চিহ্ন এবং নাকের কার্টিলেজ ভাঙা পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, মৃত্যুর আনুমানিক ২ থেকে ৪ দিন আগে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।

চাঞ্চল্যকর এই চার খুনের মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিনাত আলী জানান, সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর রংপুর জিলা স্কুলে শোক সভা এবং মাছুয়াপাড়ায় নিহতদের নিজ বাসভবনে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   রংপুর  অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক  গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল  পরিবারের সদস্য  হত্যা  ইয়াবা সেবন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: