বাগেরহাট পুলিশের বিশেষ অভিযানে আইএমইআই পরিবর্তন করা ৫৯টি মুঠো ফোন উদ্ধারসহ মোবাইল চোর সিন্ডিকেটের ৪ জন গ্রেফতার হয়েছে। মোবাইলফোন চুরি করে এই চক্রটি আইএমইআই পরিবর্তন করেছে বলে দাবি পুলিশের।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা সদরের ডাকবাংলো মোড়ের পুষ্প টেলিকম নামের একটি মোবাইল সার্ভিসিং দোকানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই মোবাইলফোনসহ তাদের গ্রেফতার করে।
মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলো সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চুরি বা ছিনতাই করা। তবে ফোনের আইএমইআই পরিবর্তন হওয়ায় এই উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলোর মালিকানা নির্ধারণ বা তাদের ফিরিয়ে দেওয়া অসম্ভব বলছে পুলিশ।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের শেখ সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে সিন্ডিকেট প্রধান রেজাউর রহমান পলাশ (৩৪), বাগেরহাট সদর উপজেলার ভট্ট বালিয়াঘাটা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর খানের ছেলে মো. হুসাইন খান (৩৪), একই উপজেলার গোটাপাড়া আতাইকাঠি গ্রামের আক্কেল আলী শেখের ছেলে মো. অহিদুল ইসলাম (২৬), এবং খুলনার রুপসা উপজেলার ঘাটভোগ গ্রামের চৈতন্য সাহার ছেলে চন্দন সাহা (৩০)।
পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, বাগেরহাট জেলায় সম্প্রতি মোবাইল চোরের উপদ্রব বেড়েছে। এই চোর চক্রটি শনাক্ত করতে পুলিশ গোপনে কাজ করছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ফকিরহাটের ডাকাবাংলো এলাকার একটি দোকানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৫৯টি মোবাইলফোনসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, উদ্ধার করা এসব মোবাইলফোনের আইএমইআই নাম্বার নাই। আইএমইআই নাম্বার পরিবর্তন করা হয়েছে। ফোন চুরি করে ফোনের আইএমইআই পরিবর্তন করতে বাগেরহাটে বেশ কয়েকটি চক্র কাজ করছে। এই মোবাইলফোনের আইএমইআই না থাকায় মালিকানা শনাক্ত করা যায় না।
আইএমইআই নাম্বার না থাকলে সে ফোনটি অবৈধ। আইএমইআই পরিবর্তন করে এই চক্র তা সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে প্রতারণা করছে, একটি চক্রকে ধরা হয়েছে, অন্যদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
সময়ের আলো/আতা