উত্তাল বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি বরকত’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচ জেলের সবাইকে উদ্ধারের খবর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপকূলে পৌঁছেছিল।
এ খবরে স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও কিছুক্ষণ পরই উদ্ধারকারী ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পাঁচ জেলের মরদেহ কোথায় রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
এর আগে, সোমবার দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি সাগরে ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর আটজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও পাঁচজন নিখোঁজ ছিলেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইকুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)। তাঁদের বাড়ি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাগরে উদ্ধার অভিযানে থাকা জেলেদের পক্ষ থেকে উপকূলে খবর দেওয়া হয়, নিখোঁজ পাঁচ জেলের মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। খবরটি দ্রুত স্বজনদের কাছে পৌঁছালে তাঁরা মরদেহ বাড়িতে এনে দাফনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তার খাটিয়া নিয়ে বিষখালি নদীর তীরে অপেক্ষায় রয়েছে। এমনকি কয়েকজন স্বজন কবরও খুঁড়ে রাখেন।
তবে মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর থেকেই উদ্ধারকারী ট্রলারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ফলে সাগরে ঠিক কোথায় উদ্ধারকারী ট্রলারটি রয়েছে, পাঁচ জেলের মরদেহ আদৌ ট্রলারে তোলা হয়েছে কি না এবং বর্তমানে তাঁদের অবস্থান কী— এসব নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গোপসাগর থেকে ফিরে আসা অন্য ট্রলারের জেলেরা জানান, বর্তমানে সাগর অনেক উত্তাল রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাগরে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমন অবস্থায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের কাছে যাওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তারা।
উদ্ধারে যাওয়া ট্রলারের সঙ্গে কেন যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, সে বিষয়ে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে উদ্ধারকারী ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে পাঁচ জেলের মরদেহ উদ্ধারের খবরে স্বজনদের মধ্যে যে স্বস্তি ফিরেছিল, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তা আবারও উৎকণ্ঠায় পরিণত হয়েছে। প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় উপকূলে স্বজনরা এখন গভীর উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
সময়ের আলো/আতা