যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ মঙ্গলবার আকস্মিক সফরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় গেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস। তবে সফরের উদ্দেশ্য বা তিনি কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কো কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বড় সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে রাশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সি-১৭ বিমানটি স্থানীয় সময় সকালে মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং বিকেলে রিগায় ফিরে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মস্কোর বিমানবন্দরের দিকে বিমানটিকে এগিয়ে যেতে এবং পরে একটি কূটনৈতিক বহরকে শহরের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা সিবিএসকে জানিয়েছেন, সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে মস্কোয় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল যাওয়ার বিষয়টি জানায় এবং প্রতিনিধি দলটি রাশিয়া থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ করে।
এটি সিআইএ পরিচালক হিসেবে র্যাটক্লিফের প্রথম রাশিয়া সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মস্কোয় থাকা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মস্কোয় ব্রিটিশ সামরিক অ্যাটাশে হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জন ফোরম্যান মনে করেন, সফরটি ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাঁর মতে, এত উচ্চপর্যায়ের কোনো মার্কিন কর্মকর্তাকে হঠাৎ ও গোপনে মস্কোয় পাঠানোর অর্থ হলো ‘গুরুতর কোনো বিষয়’ সামনে এসেছে।
ফোরম্যান আরও বলেন, রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এর আগে রাশিয়ায় আটক রুশ-মার্কিন নাগরিক কেসনিয়া কারেলিনার মুক্তির আলোচনায় র্যাটক্লিফ ভূমিকা রেখেছিলেন।
২০২৪ সালে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি বিনিময়েও সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গেরশকোভিচ, সাবেক মার্কিন মেরিন পল হুইলান এবং রুশ-মার্কিন সাংবাদিক আলসু কুরমাশেভাসহ বেশ কয়েকজন মুক্তি পান।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই দেশের সম্পর্ক ব্যাপকভাবে অবনতি হয়। রাশিয়ার ওপর একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রাশিয়া সফর করা সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন হতে পারেন র্যাটক্লিফ। গত বছর আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হলেও তা কোনো বড় অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও তা বর্তমানে কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
সময়ের আলো/কেএইচ